আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ প্রণালি ‘খুব শিগগির’ খুলে যাবে। খবর আল-জাজিরার।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘উপসাগরীয় অঞ্চল উন্মুক্ত করবে’ এবং অন্যান্য দেশগুলোও এতে ‘সহায়তা করতে’ প্রস্তুত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “এটি সহজ হবে না। তবে আমি এটুকু বলব: আমরা খুব শিগগির সেটি খুলে দেব।”
ইরানের কার্যত অবরুদ্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি ওয়াশিংটন কীভাবে খুলে দেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও ট্রাম্প বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপিত ‘ডি ফ্যাক্টো টোল বুথ’ (অনানুষ্ঠানিক কর ব্যবস্থা) তিনি মেনে নেবেন না।
তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও তারা নিরাপদ যাতায়াতের জন্য জাহাজ থেকে মাশুল আদায় করতে চায়। এ প্রসঙ্গে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ওরা যদি এমনটা করে, আমরা তা হতে দেব না।”
ট্রাম্প আরও জানান, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানের হাতে যেন পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে, সেটিই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। আর তা নিশ্চিত হলে প্রণালীটি ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ খুলে যাবে। তিনি বলেন, “কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না- এটাই হচ্ছে মূল বিষয়ের ৯৯ শতাংশ। তাহলেই প্রণালি খুলে যাবে। তারা কোনো অর্থ উপার্জন করতে পারবে না।”
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে, যেখানে আগের দিন পার হয়েছিল পাঁচটি। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ২২টি জাহাজ (যাদের শনাক্তকরণ ব্যবস্থা সচল ছিল) প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের মতে, প্রণালীটি অবরুদ্ধ থাকায় ৩২৫টি ট্যাঙ্কারসহ ৬০০-রও বেশি জাহাজ বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে।
এদিকে, যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে শনিবার ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তবে আলোচনার শর্তাবলী এবং ইরানের দেওয়া ১০ দফার প্রস্তাব নিয়ে উভয় দেশই এখন পর্যন্ত পরস্পরবিরোধী বার্তা দিয়ে আসছে।