আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় তেহরানের হাত ‘ট্রিগারেই আছে’ এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীও ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরান সরকারের একজন মুখপাত্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-কে এসব কথা বলেছেন ফাতেমাহ মোহাজেরানি নামের ওই মুখপাত্র।
তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য (সম্ভাব্য) পরবর্তী দফার আলোচনায় ইরান অংশ নেবে কি না, তা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি ফাতেমাহ। খবর বিবিসি’র।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে দুটি কৌশল রয়েছে: প্রথমটি হলো যুদ্ধের কৌশল এবং দ্বিতীয়টি হলো কূটনীতির কৌশল।
ফাতেমাহ মোহাজেরানি আরও বলেন, আমরা আর আক্রান্ত হতে চাই না। তবে আবার যদি হামলা হয়, আমরা অবশ্যই আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে জবাব দেব।
ইরানের আলোচক দল ‘জাতীয় স্বার্থের ব্যাপারে সামান্যতম আপোসও করবে না’ বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ইরানের সাথে কোনো চুক্তি না হলে সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতির সময়টিকে তাদের সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে ব্যবহার করেছে এবং নির্দেশ পেলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত।’
সিএনবিসিকে ট্রাম্প বলেন, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত, আমাদের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ, সবকিছুই প্রচুর পরিমাণে আছে… আমরা এটা (যুদ্ধবিরতির সময়) পুনরায় মজুত (অস্ত্র) করার জন্য ব্যবহার করেছি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই দেশ দু’টির প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে চেয়েছিল মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান, যাতে একটি চুক্তি করা যায়। ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ জানালেও, ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যোগ দেয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কিছু জানায়নি।
এছাড়া, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াতে চান না বলেও এরইমধ্যে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হওয়ার আগে কোনো চুক্তি না হলে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে সংঘাতে জড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।