সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০:০০

মার্কিন অবরোধ অগ্রাহ্য করে হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে ইরানের জাহাজ

মার্কিন অবরোধ অগ্রাহ্য করে হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে ইরানের জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের উপকূলীয় বন্দরে আসা-যাওয়া করা সকল বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেহরানের জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। আর এসব জাহাজ ইরান কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত করে দেওয়া জলপথ অনুসরণ করেই চলাচল করছে। প্রণালি দিয়ে চলাচল করা এসব বাণিজ্যিক জাহাজের প্রায় অর্ধেকই ইরানের বন্দর থেকে পণ্যবোঝাই করেছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সর্বশেষ জাহাজ চলাচল তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী অধিকাংশ জাহাজই ইরানের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত পথ অনুসরণ করেছে। এসব জাহাজের প্রায় অর্ধেক ইরানের বন্দর থেকে পণ্যবোঝাই করেছে। জাহাজগুলোর মার্কিন অবরোধ অগ্রাহ্য করে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়া উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের প্রভাব বলয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

যদিও প্রণালিটির বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ আটক করেছে। তবে ইরানের উপকূল ছেড়ে যাওয়া কোনো জাহাজ আটক বা জব্দ করা হয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলারের তথ্যমতে, শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে প্রণালিটি দিয়ে ১৭টি জাহাজকে চলাচল করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে চারটি ছিল বড় মালবাহী ট্যাংকার। এই ট্যাংকারগুলোর মধ্যে দুটি ইরানের বন্দর থেকে ও দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যাত্রা করেছিল।

কেপলারের মতে, সবচেয়ে বড় জাহাজটি ছিল গ্রিক মালিকানাধীন জিয়াওলং, যেটি শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যাত্রা শুরু করে সোমবার ভারতের সিক্কা বন্দরে এসে পৌঁছায়।

গত দুই মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ববর্তী দৈনিক গড়ের প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ফলে পরিশোধিত পণ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে এশিয়ায়।

ইরান বলেছে, তারা প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করেছে। তারপর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী অন্তত দুটি জাহাজ জব্দ করে জানিয়েছে, তারা ৩৮টি জাহাজ আটক করেছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত সপ্তাহে বলেছেন, সংরক্ষণাগার ও রপ্তানি পথের অভাবে ইরানকে শিগগিরই অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটিতে তেল সংরক্ষণের অপ্রতুলতা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে। এ কারণে বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাক্স বলছে, চলতি বছরের শেষ দিকে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে