আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে সরকারি প্রশাসনিক স্তরে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। রাজ্যের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর শনিবার (৯ মে) ব্রিগেডে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এই রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই কলকাতা পুলিশের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের ‘ফলোয়ার’ তালিকায় উল্লেখযোগ্য রদবদল চোখে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আনফলো’ (অনুসরণ বন্ধ) করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের অফিশিয়াল হ্যান্ডলটি এখন যে ৪২টি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে যুক্ত হয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) অ্যাকাউন্ট। এছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টকেও ফলো করতে শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক সমীকরণের এই নাটকীয় পরিবর্তনের মাঝেও ৯ মে দুপুর পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত এক্স হ্যান্ডল ও ফেসবুক পেজে তার পরিচয় ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবেই বহাল থাকতে দেখা গেছে।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই কলকাতার রাজনৈতিন অঙ্গনে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। গত ৪ মে ঘোষিত ফলাফলে ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে রাজ্যে প্রথমবার সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এর ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ গত মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির গলির মুখে থাকা দীর্ঘদিনের ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ সরিয়ে নেয় পুলিশ।
এতদিন যেখানে সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি প্রতিবেশীদেরও পরিচয়পত্র দেখিয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হতো, সেই কড়াকড়ি এখন পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজার থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অতিরিক্ত কোনো পুলিশি পাহারা থাকবে না। তবে নিয়ম অনুযায়ী একজন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী যেটুকু প্রটোকল ও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই সুবিধা দেওয়া হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ যাননি তৃণমূলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেকের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে থেকে সমস্ত পুলিশি প্রহরা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পাশাপাশি, তার ব্যক্তিগত বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’ থেকে পুলিশের ব্যবহৃত অতিকায় মেটাল ডিটেক্টর ও স্ক্যানারসহ যাবতীয় সরকারি সুরক্ষাসামগ্রী সরিয়ে নিয়েছে লালবাজার।