বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ০৮:৪৮:১৫

এমবিবিএস-এ নতুন ইতিহাস গড়া দর্জির মেয়ে পেলেন ১৭ স্বর্ণপদক

এমবিবিএস-এ নতুন ইতিহাস গড়া দর্জির মেয়ে পেলেন ১৭ স্বর্ণপদক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাবার সেলাই মেশিনের একটানা ঘড়ঘড় শব্দ আর কাপড়ের টুকরোর ভাঁজেই বোনা হয়েছিল এক অসম্ভব স্বপ্নের জাল। যে আঙুলগুলো রাত জেগে সুই-সুতোয় অন্যের পোশাক রাঙাতো, আজ সেই বাবার হাতই কাঁপছে মেয়ের গলায় একের পর এক ১৭টি স্বর্ণপদক পরিয়ে দেওয়ার আনন্দাশ্রুতে।

অভাবের সাথে আজন্ম লড়াই করা এক দর্জির মেয়ে কান্দিল মুর্তজা শুধু ডাক্তারই হননি, মেধার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে পাকিস্তানের খাইবার গার্লস মেডিকেল কলেজের ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

 সমাবর্তন মঞ্চে যখন একের পর এক স্বর্ণপদক কান্দিলের গলায় উঠছিল, তখন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো মিলনায়তন; এ যেন কেবল এক শিক্ষার্থীর সাফল্য নয়, বরং এক অদম্য পিতার আজীবন সংগ্রামের শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

 পাকিস্তান টুডের প্রতিবেদন মতে, হরিপুরের কৃতী শিক্ষার্থী কান্দিল মুর্তজা খাইবার গার্লস মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী এমবিবিএস প্রোগ্রামে রেকর্ডসংখ্যক ১৭টি স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তার এই অনন্য সাধারণ একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সোহেল আফ্রিদি কান্দিলের হাতে পদকগুলো তুলে দিচ্ছেন, আর পাশে গর্বিত পিতা পরম মমতায় দাঁড়িয়ে আছেন।

কলেজের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর অর্জিত এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক স্বর্ণপদক। অনুষ্ঠানে অন্যান্য মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও সম্মানিত করা হয়, যাদের মধ্যে মুকাদ্দাস ১০টি এবং সাবিহ ৭টি স্বর্ণপদক লাভ করেন।

গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে কান্দিলের বাবা তাদের পরিবারের শিক্ষাগত সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কান্দিলের এক বোন বর্তমানে খাইবার মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত।

অন্য এক বোন ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিতে (এফআইএ) গ্রেড-১৭ অফিসার হিসেবে কর্মরত। তৃতীয় কন্যা পিএইচডি শেষ করে বর্তমানে ইসলামাবাদে কর্মরত আছেন। তাঁদের একমাত্র ছেলেও একজন গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার।

কান্দিলের এই অভাবনীয় সাফল্য অনলাইন জগতে প্রশংসার জোয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার একাগ্রতা, মেধা ও শিক্ষায় তার পরিবারের ত্যাগ ও সংগ্রামের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। তথ্যসূত্র: পাকিস্তান টুডে

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে