মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৪৯:১৪

উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ! কী ঘটেছে জানেন?

উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ! কী ঘটেছে জানেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কলকাতার অদূরে বারুইপুরে এক কিশোরীকে গণধ'র্ষ'ণ, হত্যা ও বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। ঘটনার জেরে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকারকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপ।

কলকাতার উপকণ্ঠ বারুইপুরে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে জলাশয়ে ফেলে দেয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গেল ৫ জুলাই মধ্যরাতে সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিখোঁজের অভিযোগ জানানোর পরও পুলিশ শুরুতে যথাযথ তৎপরতা দেখায়নি।

 ঘটনাটি সামনে আসতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিরোধী দলগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একই সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের আশঙ্কায় রোববার রাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
 
পরে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সরে গেলে সবুজ রঙের মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন মমতা ও তার সমর্থকরা। 
 
ঘটনাটি ঘিরে বাম দলগুলোর পক্ষ থেকেও আলাদা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। পানিহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে। একই দিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাম নেতারাও। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ঘটনা নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের ব্যর্থতাকেই সামনে এনেছে।
 
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা রাজনৈতিক উদ্দেশে সরকারি সম্পদ ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
গত ৯ মে দায়িত্ব নেয়ার পর সরকারের ৬০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনা রাজ্যের নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে