সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭:২৪

মাঝ আকাশে পাইলট দেখলেন বিমানে তেল কম, তারপর...

মাঝ আকাশে পাইলট দেখলেন বিমানে তেল কম, তারপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আকাশে তখন ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল বিমান। গন্তব্য ছিল আবুধাবি। হঠাৎ পাইলটের নজরে আসে, একটি ইঞ্জিনে দ্রুত কমে যাচ্ছে তেলের পরিমাণ। পরিস্থিতি ক্রমে বিপজ্জনক হয়ে উঠলে ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি বন্ধ করে মাঝ আকাশ থেকেই কোচিনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। পরে নিরাপদেই কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি।

ঘটনাটি ঘটেছে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানে।

বিমানটি ভারতের কোচিন থেকে আবুধাবির উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। প্রায় ৫০ মিনিট আকাশে ওড়ার পর ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় পাইলট ও সহকারী পাইলট লক্ষ্য করেন, এক নম্বর ইঞ্জিনে তেলের পরিমাণ দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিমানের ইঞ্জিনে তেলের মাত্রা ক্রমাগত কমতে থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেন পাইলট ও কেবিনকর্মীরা। একপর্যায়ে এক নম্বর ইঞ্জিনের তেলের চাপও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ঝুঁকি না নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ক্রুরা।

এরপর আবুধাবির দিকে যাত্রা অব্যাহত না রেখে কোচিনে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাঝ আকাশে গতিপথ পরিবর্তন করে বিমানটি ফের কোচিনের দিকে রওনা দেয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি।

ঘটনার সময় বিমানে কতজন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের আরেকটি বিমানে বোমাতঙ্কের ঘটনা ঘটেছিল। দাম্মাম থেকে নয়াদিল্লিগামী ওই বিমানের শৌচাগারে এক কেবিনকর্মী একটি টিস্যু কাগজে ‘বোম’ লেখা দেখতে পান। এতে বিমানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেবিনকর্মী বিষয়টি দ্রুত পাইলটকে জানালে পাইলট বিমান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এরপর বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে আমদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানটি অবতরণের পর সেটিকে মূল টার্মিনাল থেকে দূরে একটি নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপত্তাকর্মী ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। বিমানে থাকা ৩২ যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে টার্মিনাল-২-এ নিয়ে যাওয়া হয়।

বিমানের কেবিন, আসন ও মালামাল রাখার স্থানসহ বিভিন্ন অংশে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো হলেও কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। পরে বিমানটিকে আবার চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

একদিকে মাঝ আকাশে ইঞ্জিনের তেল কমে যাওয়া, অন্যদিকে বিমানের ভেতরে বোমার হুমকি—অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের দুটি ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে