শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:১০:৩৪

এক কঠিন পরীক্ষার সামনে নরেন্দ্র মোদি

এক কঠিন পরীক্ষার সামনে নরেন্দ্র মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক অটুট রেখে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা, একই সঙ্গে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকা দেশগুলোকে একই মঞ্চে সামলানো— এবারের ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের সামনে এমনই কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষা।

দিল্লিতে ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে চীন ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। ফলে সম্মেলন ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা তৈরি হয়েছে ইরানকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা চাওয়ার অবস্থানে থাকতে পারে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের ভূখণ্ডে ইরানের হামলার নিন্দা জানাতে আগ্রহী।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতকে এমন একটি অবস্থান নিতে হবে, যেন কোনো পক্ষই মনে না করে যে দিল্লি তাদের বিরোধী অবস্থানে চলে গেছে। কারণ, ইরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকলেও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও কৌশলগত সম্পর্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ভারতের এই ভারসাম্য রক্ষার পরীক্ষা নতুন নয়। এর আগে জি–২০ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দিল্লি ঐকমত্যভিত্তিক ঘোষণা আনতে সক্ষম হয়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতি আরও জটিল।

এরই মধ্যে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বৈঠকে ভারত ইরানের ওপর হামলার নিন্দা এবং দেশটির শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে ব্রিকসের মঞ্চে দিল্লির পরবর্তী অবস্থানের দিকেও নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।  

অন্যদিকে, ব্রিকসকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জোট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে প্রবণতা রাশিয়া ও চীনের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, সেটিও ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্রিকস নিয়ে কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে দিল্লিকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

ভারতের সাবেক জি–২০ শেরপা অমিতাভ কান্ত মনে করেন, ব্রিকসের সভাপতিত্বে ভারতকে একটি পরিণত ও অভিজ্ঞ শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত অনিল ত্রিগুণায়েতও মনে করেন, সংঘাতরত দেশগুলোর কাছেও গ্রহণযোগ্য এমন একটি যৌথ ঘোষণা তৈরির সক্ষমতা ভারতের রয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের ব্রিকস শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্মেলন নয়; এটি ভারতের বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির বড় পরীক্ষা। রাশিয়া, চীন ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব অক্ষুণ্ন রাখাই এখন দিল্লির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে