আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের জাজান প্রদেশ ও আল-উলা গভর্নরেটে নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স এক জরুরি বার্তায় এসব এলাকায় ‘সম্ভাব্য বিপদ’ সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করেছে।
এর আগে জেদ্দা, ইয়ানবু ও তাইফ গভর্নরেটেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়।
সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং সরকারি সূত্রের খবর অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও জাহাজে হামলা চালাচ্ছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা। সম্প্রতি তারা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে।
সর্বশেষ ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
শুক্রবারের হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সৌদি আরব এখনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানায়নি। তবে তেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি চালু করা না গেলে সৌদি আরবের রপ্তানির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দেয়। এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।
পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। সরবরাহ কমে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে উঠেছে। মে মাসের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দাম। সূত্র: আলজাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান