বাংলাদেশের বাজারে ২৪.২ মেগাপিক্সেলের নতুন ফুল-ফ্রেম মিররলেস ক্যামেরা ইওএস আর এইট মার্ক টু (ইওএস আর ৮ মার্ক ২) উন্মোচন করেছে জাপানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্যানন।
ইওএস আর এইটের উত্তরসূরি এ ক্যামেরার ওজন মাত্র ৫৪৬ গ্রাম। এতে নতুন সৃজনশীল সুবিধা, সহজ ইন্টারফেস, উন্নত স্থিতিশীলতা প্রযুক্তি এবং ক্যাননের উচ্চতর মডেলের বেশ কিছু প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল রেডিসনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্যামেরাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ক্যানন সিঙ্গাপুরের সিনিয়র ডিরেক্টর (রিজিওনাল বিক্রয় ও বিপণন) নাগাই কাতসুয়ুকি বলেন, নতুন নকশা, সহজ ও স্বজ্ঞাত ফিচার এবং উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যামেরাটি সব পর্যায়ের ফটোগ্রাফারকে নতুন সৃজনশীল সম্ভাবনা খুঁজে নিতে এবং নিজস্ব দৃশ্যশৈলী গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করবে।
ছোট ও হালকা
ক্যানন জানিয়েছে, দেহের ভেতরে স্থিতিশীলতা ব্যবস্থাসহ এটি তাদের সবচেয়ে ছোট ও হালকা ফুল-ফ্রেম মিররলেস ক্যামেরা। এর আকার ১৩১ দশমিক ৪ × ৯০ × ৭৯ দশমিক ৭ মিলিমিটার। ব্যাটারি ও মেমোরি কার্ডসহ ওজন প্রায় ৫৪৬ গ্রাম।
ক্যাননের পরিচিত পেন্টাপ্রিজম আকৃতির আধুনিক রূপ হিসেবে ক্যামেরাটির নকশায় সরল রেখা ও বাঁকের সমন্বয় করা হয়েছে। গ্রিপও রাখা হয়েছে আরামদায়ক।
এই শ্রেণির ইওএস আর সিরিজের ফুল-ফ্রেম ক্যামেরাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম, যাতে উচ্চতর মডেলের মতো মাল্টি-কন্ট্রোলার বা জয়স্টিক রয়েছে। ফলে ভিউফাইন্ডারে চোখ রেখেই সহজে অটোফোকাসের স্থান নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
বড় হাতের ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা এক্সটেনশন গ্রিপ ব্যবহার করা যাবে। এটি সহজে লাগানো ও খোলা যায়। ট্রাইপডে বসানো এবং ব্যাটারি বদলানোর সুবিধাও রয়েছে এতে।
কম আলোতেও ভালো ছবি
ফুল-ফ্রেম সেন্সর এপিএস-সি সেন্সরের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ গুণ বেশি জায়গায় আলো ধারণ করতে পারে। ফলে কম আলোতে ছবির মান ও অটোফোকাসের কার্যক্ষমতা ভালো হয়। একই ফোকাল লেন্থে দৃশ্যের পরিধিও বেশি পাওয়া যায়। এতে অতি-প্রশস্ত কোণের লেন্সে নাটকীয় ছবি তোলা কিংবা সামনে-পেছনে সুন্দর ঝাপসা ভাব তৈরি করা সহজ।
ধীরগতির শাটারে হাত নড়ার কারণে ছবি ঝাপসা হওয়া কমাতে এতে রয়েছে ৫-অ্যাক্সিস ইন-বডি স্থিতিশীলতা ব্যবস্থা। আরএফ লেন্সের নিজস্ব স্থিতিশীলতার সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে কর্ডিনেটেড কন্ট্রোল প্রযুক্তিতে কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫ স্টপ এবং প্রান্তে ৭ স্টপ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা পাওয়া যায়।
চলমান মুহূর্ত ধরে রাখতে রয়েছে ডুয়াল পিক্সেল সিমস ওয়ান দ্বিতীয় প্রজন্মের অটোফোকাস, প্রি-কন্টিনিউয়াস শুটিং এবং ইলেকট্রনিক শাটারে সর্বোচ্চ ৪০ এফপিএস গতিতে টানা ছবি তোলার সুবিধা। আগে থেকে নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনুসরণ করার সুবিধাও রয়েছে। ভিড়ের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ফোকাসে রাখতে এটি কাজে লাগবে।
নিজের মতো করে ছবি সাজানোর সুযোগ
সম্পাদনা ছাড়াই পছন্দের রং ও আবহ তৈরি করতে ছবি ও ভিডিওর জন্য দুটি নতুন কালার ফিল্টার যুক্ত করা হয়েছে—‘নেগেটিভ ফিল্মটোন’ ও ‘পজিটিভ ফিল্মটোন’। আগের ১৪টি ফিল্টারের পাশাপাশি ফিল্টারের তীব্রতা পরিবর্তনের সুবিধাও রয়েছে।
হাতে ধরে রাতের দৃশ্য তোলার মোডে নীল, কালো-কমলা, গোলাপি ও সবুজ—এই চারটি বাড়তি রঙের বিকল্প রয়েছে। টাইম-ল্যাপস ভিডিওর জন্য এক্সপোজার মসৃণ করা, টাইমার অগ্রাধিকার ও দেরিতে শুরুর বিকল্প রাখা হয়েছে।
নতুনদের জন্য রয়েছে ক্রিয়েটিভ অটো মোড। ক্যানন জানিয়েছে, ইওএস ফুল-ফ্রেম ক্যামেরায় এ সুবিধা প্রথমবার যুক্ত হয়েছে। সহজ ইন্টারফেসের মাধ্যমে ধাপে ধাপে দক্ষতা বাড়ানো যাবে। ভিডিওতেও পটভূমি ঝাপসা করার সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া স্লো ও ফাস্ট মোশন ভিডিও এবং সিনেমা ভিউ সুবিধাও পাওয়া যাবে।
ভিডিও নির্মাতাদের জন্যও নানা সুবিধা
ক্যামেরাটিতে ৬কে থেকে নমুনা নিয়ে তৈরি ৪কে ৬০পি মানের ভিডিও এবং শব্দসহ ফুল এইচডি ১৮০পি পর্যন্ত রেকর্ড করা যায়। রঙ সংশোধনের উপযোগী ক্যানন লগ থ্রিও রয়েছে।
সিনেমা ইওএস সিরিজ থেকে নেওয়া কাস্টম পিকচার সুবিধায় নিজস্ব লুকআপ টেবিল ব্যবহার এবং ছবির বিভিন্ন মান সূক্ষ্মভাবে পরিবর্তন করা যায়।
সরাসরি সম্প্রচারের জন্য তারযুক্ত ও তারবিহীন মিলিয়ে চার ধরনের বিকল্প রয়েছে। লাইভ সুইচার মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে একাধিক অ্যাঙ্গেল থেকেও সম্প্রচার করা সম্ভব।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা ভিআর কনটেন্টের জন্য ক্যামেরাটি ফুল-ফ্রেম ও এপিএস-সি ভিআর লেন্সের সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে। নতুন ভিআর ক্লিয়ার মোড ভিআর গগলসে দেখার সময় কনট্রাস্ট ও স্পষ্টতা বাড়ায়। নতুন সফটওয়্যার ডুয়াল পিক্সেল থ্রিডি কনভার্টারের মাধ্যমে স্থিরচিত্রকে থ্রিডিতে রূপান্তর করা যাবে।
ক্যামেরাটির সঙ্গে তিনটি নতুন আনুষঙ্গিক পণ্যও ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো হলো এক্সটেনশন গ্রিপ ইজি-ই২, ব্লুটুথ রিমোট কন্ট্রোলারসহ ট্রাইপড গ্রিপ এইচজি-১০০০টিবিআর এবং স্পিডলাইট ইএল-৫ (সংস্করণ ২)। শেষোক্তটির তারবিহীন যোগাযোগের পরিসর বাড়িয়ে প্রায় ৫০ মিটার করা হয়েছে।
প্রধান বৈশিষ্ট্য
প্রসেসর: ডিজিক এক্স
আইএসও: স্থিরচিত্রে ১০০–১,০২,৪০০; বর্ধিত ৫০ ও ২,০৪,৮০০
মেমোরি: একটি এসডি কার্ড স্লট; ইউএইচএস-১ ও ইউএইচএস-২ সমর্থিত
সংযোগ: ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ ৫.৩
এইচডিএমআই আউটপুট: ৪কে ৬০ এফপিএস
মাইক্রোফোন: ৩.৫ মিমি স্টেরিও জ্যাক
ব্যাটারি: এলপি-ই১৭
ক্যানন জানিয়েছে, পণ্যের বৈশিষ্ট্য, দাম ও প্রাপ্যতা পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পরিবর্তন হতে পারে এবং বাজারভেদে ভিন্ন হতে পারে।