আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বালির ধূধু প্রান্তর, চারদিকে শুধু শুষ্কতা আর প্রাণহীনতা—এটাই চিলির আতাকামা মরুভূমির পরিচিত চিত্র। বিশ্বের সবচেয়ে শুকনো মরুভূমি হিসেবে পরিচিত এই বিশাল অঞ্চলকে এবার চেনাই কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রকৃতির খেয়ালে বালির প্রান্তর ছেয়ে গেছে নানা রঙের ফুলে।
চিলির আতাকামা মরুভূমি প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বছরের বেশির ভাগ সময়ই এখানে বৃষ্টির দেখা মেলে না। ফলে বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে গাছপালা বা প্রাণীর উপস্থিতিও খুব কম।
তবে কয়েক বছর পরপরই এই মরুভূমির চেহারায় আসে বড় পরিবর্তন। নির্দিষ্ট আবহাওয়াগত পরিস্থিতি তৈরি হলে মাটির নিচে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্ত থাকা ফুলের বীজ জেগে ওঠে। তখন বালির জায়গা দখল করে নেয় রঙিন ফুল।
এ সময় আতাকামাকে বলা হয় ‘ফুলে ফোটা মরুভূমি’। প্রায় ২০০ ধরনের ফুল ফুটে মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা রঙিন হয়ে ওঠে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বালির ওপর যেন কেউ রঙিন কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে।
এবারও প্রকৃতির বিশেষ পরিস্থিতিতে আতাকামায় দেখা দিয়েছে এমন দৃশ্য। এল নিনোর প্রভাবে গত আগস্টে মরুভূমিটিতে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়। এর সঙ্গে ছিল তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়া।
বৃষ্টি ও ঠান্ডার এই সমন্বিত প্রভাবেই মরুভূমির মাটিতে দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে থাকা ফুলের বীজগুলো অঙ্কুরিত হতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
শুষ্ক মরুভূমির এমন অভাবনীয় রূপ দেখতে এখন সেখানে ভিড় করছেন অনেক মানুষ। বছরের বেশির ভাগ সময় যে অঞ্চলকে প্রাণহীন বালির প্রান্তর মনে হয়, সেই আতাকামাই এখন পরিণত হয়েছে রঙিন ফুলের অপূর্ব দৃশ্যে।
প্রকৃতির এই বিরল পরিবর্তন শুধু পর্যটকদেরই আকর্ষণ করছে না, মরুভূমির কঠিন পরিবেশেও কীভাবে জীবনের অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে, তারও এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে আতাকামা।