আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে রাজধানী ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ স্থগিত রাখতে জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে অনুরোধ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদমুখী মার্চ নিয়ে জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পর তাকে ফোন করেন শেহবাজ। এ সময় তিনি জামায়াতের ইসলামাবাদমুখী মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।
তবে লং মার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াত ছাড়বে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দলটির আমির।
জবাবে হাফিজ নাঈম বলেন, সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বা সংঘাতের মুখে ফেলা জামায়াতের উদ্দেশ্য নয়। তবে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন এবং প্রতিবাদ করার অধিকার সরকারকে সম্মান করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ শুরার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সরকারের অনুরোধে মার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াত ছাড়বে না।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম বলছে, পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে হাফিজ নাঈমের নেতৃত্বে জামায়াতের ট্রেন মার্চ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মুলতানে পৌঁছায়। সেখানে রেলস্টেশনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির।
তিনি বলেন, ট্রেনটি চার ঘণ্টা দেরিতে মুলতানে পৌঁছেছে। তবে এই বিলম্বও সমর্থকদের মার্চকে স্বাগত জানাতে আসা ঠেকাতে পারেনি। হাফিজ নাঈম বলেন, ‘যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা মুলতানে আমাদের স্বাগত জানাতে কত মানুষ বেরিয়ে এসেছে, তা দেখুক।’
বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন শহর ও জনপদেও একইভাবে মানুষ জামায়াতের এই মার্চকে স্বাগত জানাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এখন এই মার্চ দক্ষিণ পাঞ্জাব হয়ে মধ্য পাঞ্জাবে যাবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের উদ্দেশে পাকিস্তান জামায়াতের আমির বলেন, রাস্তায় কনটেইনার ফেলে, বাধা দিয়ে এই মার্চ থামানো যাবে না। পেট্রোলিয়াম লেভির মধ্যে থাকা কথিত ‘চাঁদাবাজির কর’ প্রত্যাহার এবং জনগণকে স্বস্তি দেয়ার দাবি জানান তিনি।
জামায়াতের আমির বলেন, তারা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরছেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক দলগুলো যথাযথভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ভোক্তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপের উদাহরণ হিসেবে গম, আটা ও চিনির দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
হাফিজ নাঈম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আটা ও চিনি ব্যবসায়ীদের প্রভাব রয়েছে। চিনি আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের নীতিতে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও সমালোচনা করেন তিনি।
স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি নিয়েও জামায়াতের আগের আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন তিনি। ওই ক্ষেত্রেও দলটি জনগণের স্বার্থ তুলে ধরেছিল বলে দাবি করেন জামায়াতের আমির।
সংবাদমাধ্যম বলছে, গত রোববার পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে করাচি থেকে লং মার্চ শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। পরে ট্রেন ও সড়কপথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সেই আন্দোলন ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি দলটি দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও করেছে। এর আগে দাবিগুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনাও করেছে জামায়াত।
এদিকে মুলতানে পৌঁছানোর পর জামায়াতের এই বহর লাহোরের দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর লং মার্চের শেষ ধাপে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।