রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫, ০৯:৪৫:৫৭

মাঠের বাইরে তাদের লড়াই!

মাঠের বাইরে তাদের লড়াই!

বিনোদন ডেস্ক : চোখ ধাঁধানো আঁতশবাজি আর দেশি বিদেশী তারকা শিল্পীদের পারর্ফরমেন্সের মধ্য দিয়ে পরশু সন্ধ্যায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাতিয়ে পর্দা উঠলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) তৃতীয় আসরের। এরই মধ্যে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুও হয়ে গেছে চিটাগাং ভাইকিংস এবং রংপুর রাইডার্সের মধ্যে লড়াই। যা চলবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এদিকে বিপিএল-কে কেন্দ্র করে শোবিজ অঙ্গনও জমে উঠেছে। বিনোদন জগতের তারাদের মধ্যেও ক্রিকেটের এই ঘরোয়া আয়োজন নিয়ে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক উত্তেজনা! কারণ, তারাও যে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছেন এই লড়াইয়ে! মাঠের বাইরে তারারাও মাতিয়ে রাখবেন ক্রিকেটার আর ক্রিকেটমোদীদের। সে লক্ষ্যেই ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দলের থিং সংয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন সঙ্গীতাঙ্গনের বেশ কজন তারকা। তাছাড়া চলচ্চিত্রের অঙ্গনের জনপ্রিয় জুটি অনন্ত বর্ষা একটি দলের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ক্রিকেট বিষয়ক অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার দায়িত্বও নিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের বেশ ক’জন তারকা। চ্যানেল নাইনে সঞ্চালনার দায়িত্বে আছেন আমব্রিন। বিপিএল-এর প্রতিটি খেলা সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা দিয়েছে ‘চ্যানেল নাইন’। এর পাশাপাশি খেলা শুরুর আগে, মাঝে ও পরে থাকছে ক্রিকেট নিয়ে নানা রকম আয়োজন। এগুলো সঞ্চালনা করবেন অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা আমব্রিন এবং কলকাতার অভিনেত্রী পামেলা সিং ভুটোরিয়া। তারা দু’জনই শোবিজ অঙ্গনের সাথে জড়িত। বিপিএলের গেল দুই আসরের উপস্থাপিকার দায়িত্ব পালন করেছিলেন ভারতীয় মডেল ও অভিনেত্রী শিনা চৌহান। তবে এবার আর তিনি থাকছেন না বলে আগেই নিশ্চিত করেছে চ্যানেল নাইন। এদিকে কলকাতার অভিনেত্রী পামেলা উপস্থাপনার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষত মিস ইন্ডিয়া সুন্দরী প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালিস্ট এই অভিনেত্রী বাংলাদেশিদের কাছে পরিচিত কলকাতার আলোচিত কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের কল্যাণে। এগুলোর মধ্যে ‘টান’, ‘জলে জঙ্গলে’ ও ‘বাপি বাড়ি যা’ উল্লেখযোগ্য। এবার মাঠে মাইক্রোফোন হাতে দেখা যাবে কলকাতার অভিনেত্রী পামেলা সিং ভুটোরিয়াকে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) উপলক্ষে কয়েকটি দল তাদের নিজস্ব থিম সং তৈরি করেছে। যা তাদের ভক্তদের অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেই ধারণা দলগুলোর কর্ণধারদের। এর মধ্যে চিটাগাং ভাইকিংসের জন্য থিম সংয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীত তারকা কুমার বিশ্বজিৎ। কবির বকুলের কথায় গানটির সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন ইবরার টিপু। আফজাল আহমেদের নির্দেশনায় ইতিমধ্যেই ‘উড়াইয়া উড়াইয়া মারোরে ধুম ধাড়াক্কা মারোরে’ শীর্ষক গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হয়েছে। গান প্রসঙ্গে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম বিভাগের সন্তান। তাই চিটাগাং ভাইকিংসের থিম সংয়ে কণ্ঠ দিতে পেরে ভালো লেগেছে। গানটির কথা ও সুরে চিটাগাং দলের জন্য শুভকামনা রয়েছে। আশা করছি গানটি দলের জন্য উৎসাহ জোগাবে ও শ্রোতাদের ভালো লাগবে।’ তবে রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় ও ইমন সাহার সুরে একই দলের জন্য আরও একটি থিম সংয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন কিশোর ও ঐশি। চট্টগ্রাম ভাইকিংসের থিম সং গেয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ অন্যদিকে কুমিল্লার সন্তান সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস দলের জন্য গান গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে সেখান থেকে সরে আসেন। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, বিপিএলের আরেক টিম বরিশাল বুলসের জন্য আগেই একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ‘বরিশাল বুলস কামাল কামাল, বরিশাল বুলস সামাল সামাল’ শিরোনামের গানটির কথা লিখেছেন রাজিব আহমেদ। সুর করেছেন রাজেশ ঘোষ। এ প্রসঙ্গে আসিফ আকবর বলেন, ‘বরিশাল বুলসের থিম সং গেয়েছি। কারণ সেখানকার মানুষ আমাকে আগেই আপন করে নিয়েছে। এ দলের সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি যুক্ত। তারা আমাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও বানিয়েছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের জন্যও একটি গান করার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি আর করছি না। তবে কুমিল্লার ছেলে হিসেবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস এর জন্য শুভকামনা থাকলো। এদিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস্ তাদের দলের জন্য একটি গান তৈরি করেছে। এতে গেয়েছেন পপ গায়িকা মিলা। কৌশিক হোসেন তাপসের সুরে সঙ্গীতায়োজন করেছেন ফুয়াদ আল মুক্তাদির। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর মিলা-ফুয়াদ জুটির প্রত্যাবর্তন ঘটলো । এ বিষয়ে মিলা বলেন, ‘প্রথমত ভালো লাগার বিষয় হলো এটি বিপিএলের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের জন্য তৈরি গান। দ্বিতীয়ত, এর সংগীতায়োজন করেছেন ফুয়াদ ভাই। যার সুরে আমার কণ্ঠের অনেক গানই শ্রোতারা সাদরে গ্রহণ করেছেন। তাছাড়া কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের আলোচিত জুটি অনন্ত বর্ষা। দুজনকেই দলটির ব্যান্ড এ্যাম্বাসেডর হিসেবে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া’র সাথে যুক্ত হয়েছেন অনন্ত জলিল ও বর্ষা। বিপিএলের আরেক দল রংপুর রাইডার্স, এদের থিম সংয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন কনা ও পলাশ। ‘রঙ রঙ রঙ রঙিলা, রঙিলা রংপুর/রঙের ডানায় চড়ে উড়ব বহুদূর/‘রঙ রঙ রঙ রঙিলা, রঙিলা রংপুর/ রাইডার্স অব হোপ রঙিলা রংপুর’-এমন কথায় গানটি লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন মীর মাসুম। গানটি প্রসঙ্গে কনা বলেন, এখন আমাদের দেশে ক্রিকেট ও গান একাকার হয়ে গেছে। তাই এ ধরনের ভিন্নধর্মী গান গাইতে আমার নিজেরও ভালো লাগে। আমি আশাবাদী রংপুর রাইডার্সের এ গানটি নিয়ে। সূত্র : বাংলামেইল ২৪। ২২ নভেম্বর, ২০১৫/এমটিনিউজ২৪/জহির/মো:জই

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে