বিনোদন ডেস্ক : সম্প্রতি শ্বশুর অমিতাভ ও পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়াকে জড়িয়ে চর্চা শুরু হয়েছে ‘পানামা পেপার্স’ কেলেঙ্কারি। তবে ঐশ্বরিয়া তার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছেন গতকাল। অন্যদিন এ ঘটনায় এখনো মুখ খুলেননি অমিতাভ।
ভারতের যে ইংরেজি দৈনিকে তার নাম ‘ফাঁস’ করা হয়, আজ সেই পত্রিকার নাম উল্লেখ করে অমিতাভ বলেন, ‘সি বাল্ক শিপিং কোম্পানি লিমিটেড, লেডি শিপিং লিমিটেড, ট্রেজার শিপিং লিমিটেড এবং ট্র্যাম্প শিপিং লিমিটেড নামে যে চারটি জাহাজ সংস্থার উল্লেখ করা হয়েছে, আমি তার কোনওটির ডিরেক্টর নই। কখনও ছিলাম না। হয়তো আমার নামে অপব্যবহার হয়েছে।’
নিজের বক্তব্য বিবৃতি হিসাবেও প্রকাশ করেছেন অমিতাভ। তাতে জানিয়েছেন, ‘বিদেশে আমার যাবতীয় খরচের উপরে কর দিয়েছি। বিদেশি সংস্থায় যা লগ্নি করেছি, তা-ও দেশের আইন মেনে। আইন মেনে লিবারালাইজ্ড রেমিট্যান্স স্কিমে’র (এলআরএস) মাধ্যমে ভারতে প্রযুক্ত সমস্ত কর মিটিয়েই ওই লগ্নি করেছি। এছাড়া, ওই দৈনিকে আমার সম্পর্কে যা দাবি করা হয়েছে, তাতেও আমার দিক থেকে বেআইনি কিছু করেছি, এমন কোনও ইঙ্গিত নেই’।
গতকাল রাত ১টা ৫৫ মিনিটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি পংক্তি ‘রিটুইট’ করেছিলেন অমিতাভ। তা দেখে নেটিজেনদের একাংশের ধারণা হয়েছিল, পানামা কেলেঙ্কারিতে তার নাম জড়ানোর প্রেক্ষিতেই অমিতাভ হয়তো ওই পংক্তিটি ‘রিটুইট’ করেছেন।
অমিতাভের ওই পংক্তিটির মর্মার্থ— ‘যারা মনে করেন, আমি এমন সীমাহীন নির্বুদ্ধিতার কাজ করতে পারি, তাদের জবাব দিতে যাওয়ার অর্থ নিজেকে অপমান করা’।
১৯৩৯ সালে লেখা একটি চিঠিতে পংক্তিটি লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ‘জনগণমনঅধিনায়ক’ গানটিতে উল্লিখিত ‘ভাগ্যবিধাতা’ ব্রিটেনের তৎকালীন রাজা কি না, সেই বিতর্কের নিরসন করতেই ওই চিঠি লিখেছিলেন তিনি। উদ্ধৃতিটি শেষ হয়েছে রবীন্দ্রনাথের নামের তিনটি ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘আরএনটি’ দিয়ে।
এদিকে, ভারতের ওই ইংরেজি দৈনিকে আজ প্রকাশিত ‘পানামা পেপার্সে’র দ্বিতীয় পর্বে উঠে এসেছে দেশের আরও বেশ কয়েকজন শিল্পপতির নাম। ‘মস্যাক ফনসেকা’র আনুকূল্যে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বাহামাস’এর মতো কর ফাঁকির দেশে বাণিজ্য সংস্থা খোলার অভিযোগের আঙুল উঠেছে অলঙ্কার ব্যবসায়ী অশ্বিনীকুমার মেহরা, শিল্পপতি অনুরাগ কেজরীবাল, গৌতম এবং তাঁর ভাই কর্ণ থাপার-সহ অনেকের বিরুদ্ধেই।
এ প্রসঙ্গে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর রঘুরাম রাজন আজ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার নিযুক্ত তদন্তগোষ্ঠী ‘পানামা পেপার্সে’ উল্লিখিত ভারতীয়দের সম্পর্কে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখবে।
রাজনের কথায়, ‘আমরা তদন্তগোষ্ঠীতে রয়েছি। তদন্ত হবে। তবে, বিদেশে লগ্নি করা সবসময়ে বেআইনি নয়। কারা আইনসম্মতভাবে লগ্নি করেছেন, আর কারা বেআইনিভাবে লগ্নি করেছেন, তা খুঁজে বার করা আমাদের কাজ।’
তবে এই সূত্রে নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা পি সি চাকোর মন্তব্য, ‘কালো টাকা ফেরাতে গত ২০ মাসে বর্তমান সরকার কিছুই করেনি। বিজয় মাল্য এবং ললিত মোদীর মামলাই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। পানামা কেলেঙ্কারিতে যাঁদের নাম উঠেছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রকৃত তদন্ত হবে কি না সন্দেহ!’
৬ এপ্রিল, ২০১৬/এমটিনিউজ২৪/এসপি/এমএন