বিনোদন ডেস্ক : বক্তব্য রাখছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক। কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে কেঁদে ফেললেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বললেন, তার ছেলেমেয়ে ও পরিবারের সবার সঙ্গে আমার বড় ভাইয়ের সম্পর্ক। আমি কাকার স্নেহ পেয়েছি। আমি তার ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তার কাছ থেকে আমার প্রাপ্তি অনেক।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে ছিল প্রথম বাংলা ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’-এর পরিচালক আব্দুল জব্বার খানের জন্মশতবার্ষিকী উৎসবের উদ্বোধনী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে এসেছিলেন এ অভিনেতা।
রাজ্জাক বলেন, যখন কলকাতায় নাটক করতাম, তখন তার সঙ্গে আমার পরিচয়। কথা হয়েছিল মাত্র ১০ মিনিট। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর বাংলাদেশে চলে আসি। কমলাপুর রেলস্টেশনে নেমেই গিয়েছিলাম কাকার বাসায়।
তিনি বলেন, তখন আমার দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না। তিনি আমাকে স্নেহ দিলেন, কাজের সুযোগ দিলেন। আমি নায়ক হওয়ার পর খুবই খুশি হয়েছিলেন তিনি। শুরুতে তিনি আমাকে সহকারী পরিচালকের কাজ দিয়েছিলেন।
রাজ্জাক বলেন, আমি ছিলাম ‘উজালা’ ছবির চার নম্বর সহকারী পরিচালক।
আমি যেন তার ছবির নায়ক না, তার সন্তান ছিলাম। তার সান্নিধ্য পেয়ে আমি ধন্য। কয়েক দিন আগে তো আমি প্রায় মরেই গিয়েছিলাম। ১৭ কোটি মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে আছি। এসবের পেছনে ওই মানুষটির অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পটাকে তিনি তৈরি করেছিলেন। আজ সেটা কোথায় গেল! আজ কোনো আর্টিস্টকে দেখছি না।
বাংলা প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর নির্মাতা আব্দুল জব্বার খানের শততম জন্মবার্ষিকী ছিল গতকাল। এ উপলক্ষে আজ রোববার থেকে শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে তার ছবিগুলোর প্রদর্শনী। প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টায় দেখানো হবে ছবিগুলো।
১৭ এপ্রিল,২০১৬/এমটিনিউজ২৪/এমআর/এসএম