বৃহস্পতিবার, ০৯ জুন, ২০১৬, ০৩:২৬:৩৬

কাঠগড়ায় মাহি

কাঠগড়ায় মাহি

বিনোদন ডেস্ক :  বিয়ে এবং বিয়ের পর পূর্বের স্বামী দাবীদার শাওন প্রশ্নে বেশ বিব্রত ছিলেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা মাহিয়া মাহি। এ নিয়ে তুমুল আলোচনা আর সমালোচনার মুখে ছিলেন এই নায়িকা। এমনকি তার কথিত স্বামী শাওনের বিরুদ্ধে মামলাও করেন।

 

শাওন কর্তৃক ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিগুলো নিয়ে শুরু হয় দারুণ হৈচৈ। শাওনকে আটকের পর পুলিশ রিমান্ডেও নেয়। রিমান্ডে পুলিশ মাহিকে তার স্ত্রী দাবী করেন এবং আদালতে বিয়ের পক্ষে কাবিননামাও উপস্থাপন করেন। এছাড়াও শাওনের পরিবারের পক্ষ থেকে মাহির বিরুদ্ধেও মামলা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। এমন খবর প্রকাশের একদিন পরই শাওনের পরিবারের সাথে সমোঝতায় আসেন মাহি।

 

এদিকে সম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় এই নায়িকার ‘কাঠগড়ায় মাহি’ শিরোনামে একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে কালের কষ্ঠ। এমটি নিউজের পাঠকের জন্য সে সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

 

‘হঠাৎ বিয়ে, কথিত ‘প্রথম বিয়ে’র কাবিননামা প্রকাশ, মামলা, গ্রেপ্তার, সমঝোতা, বিচ্ছেদ, এমনকি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর—মাহিয়া মাহির কাছে তাঁর ভক্তদের অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে আছে। সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ কুমার দীপ

 

সকাল থেকেই আপনার ফোন বন্ধ...

-পারিবারিক কাজে ছিলাম। এ জন্য ফোন বন্ধ করে রেখেছি। তা ছাড়া অযথা সবাই ফোন দেন, বকবক করেন। এগুলো ভালো লাগে না।

 

শাওনের সঙ্গে তাহলে সমঝোতায় গেলেন?

-শাওন আমার ছোটবেলার বন্ধু। ওর বিরুদ্ধে মামলা করতে খারাপ লাগছিল। কিন্তু উপায় ছিল না। বিয়ের পর এমন ছবি প্রকাশ করাটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হয়েছে। তা ছাড়া অপু (স্বামী) চেয়েছিল, এর একটা বিহিত হোক। সে জন্যই মামলাটা করেছিলাম। তবে এখন বুঝতে পারছি, এসবের পেছনে তৃতীয় কেউ আছেন। তাঁর কলকাঠিতেই শাওন এ রকম কাজ করেছে। যা হোক, সব ভুল শুধরে নিয়েছি। শাওন আমার বন্ধু ছিল, থাকবে।

 

এই তৃতীয় পক্ষ কারা? মিডিয়ার কেউ?

-আর কে! প্রথম থেকেই আমাকে নিয়ে খেলা হচ্ছে। জানি না, আমার দোষ কোথায়। যখন ভালো থাকতে চাচ্ছি, তখনই কোনো না কোনো ঝামেলা ঘাড়ের ওপর এসে পড়ছে।

 

শাওন নিজেকে আপনার স্বামী দাবি করেছেন...

-শাওন আমার বন্ধু, স্বামী না। ছোটবেলা থেকে আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি। একই স্কুল-কলেজে পড়েছি। আর ও যদি সত্যি আমার স্বামী হতো, তাহলে কি আমি সাংবাদিক ডেকে ধুমধাম করে বিয়ে করতাম? আমার কি একটুও জড়তা থাকত না?

 

কিন্তু শাওন তো আদালতে কাবিননামা দিয়েছেন।

-কই? আমি তো দেখিনি। আর এগুলো নিয়ে আমার জানার আগ্রহ নেই। শাওনের সঙ্গে একটা ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে, সেটা ঠিকও হয়ে গেছে। আমরা এখন ভালো বন্ধু। প্লিজ, এগুলো নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবেন না।

 

আপনার স্বামী অপু কী বলেন এ বিষয়ে?

-অপুর সঙ্গে চার বছরের পরিচয়। ও আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমি নানা অজুহাত দেখিয়েছিলাম। বলেছিলাম, কোনো দিন রান্না করে খাওয়াতে পারব না, মশারি টানাতে পারব না, বছরে এক দিনও ঘোরার সময় পাবে না। মনে করেছিলাম, ও ভয় পাবে। কিন্তু না। সে সব শর্তেই রাজি! এমন একটা স্বামী এ বিষয়ে কী বলতে পারে, বুঝে নিন।

 

কিন্তু শোনা যাচ্ছে, আপনাদের নাকি ডিভোর্স হচ্ছে!

-আমার অনেক শত্রু। এরা আমার সুখ সহ্য করতে পারছে না বলেই এসব রটাচ্ছে। অপু আমাকে জেনেশুনেই বিয়ে করেছে। আমি নায়িকা। অভিনয় করার সময় নায়কদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হতে হয়। শাওনের সঙ্গে তোলা ছবিগুলোও ফাজলামি করে তোলা। অপু সেটা জানে। বরং আমাকে নিয়ে যখন চারদিকে বাজে বাজে কথা হচ্ছে, তখন ও-ই আমাকে বুঝিয়েছে, মানসিক সাপোর্ট দিয়েছে। এই দুই সপ্তাহের সংসারজীবনে আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। সে আমাকে যতটা ভালোবাসে, অন্য কেউ স্বামীর কাছ থেকে এত ভালোবাসা পায় বলে মনে হয় না। সারা জীবন এক আছি, এক থাকব।

 

-খবর এসেছে, চুক্তিবদ্ধ হওয়া ছবি থেকেও নাকি বাদ পড়ছেন?

এর মধ্যে বদিউল আলম খোকন স্যারের দুটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। তিনি আমাকে বাদ দেবেন, এটা বিশ্বাস হয় না। বিয়ের পরদিনও আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানতে চেয়েছেন, কবে থেকে শুটিং করব। আমি দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছি। তিনি মজা করে বলেছেন, হানিমুন করতে যাচ্ছি কি না। তা ছাড়া শাহনেওয়াজ শানু ভাইয়ের ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’ ছবির কাজও চলছে। তাহলে কোন ছবি থেকে বাদ পড়লাম?...এসব কারা যে ছড়ায়! ভাই, আপনাদের কাছে মাফ চাই, আমাকে আমার মতো থাকতে দিন।

 

শ্বশুরবাড়ি কেমন লেগেছে?

-আমি ভাগ্যবতী এমন একটি পরিবারের সদস্য হতে পেরে। শাশুড়ি তো আমাকে মেয়ে করে নিয়েছেন। দুই সপ্তাহে আমার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় সামলেছেন তিনিও। কখনো মন খারাপ করতে দেননি।

 

নতুন বাসা কেমন সাজালেন?

-এখনো কিছুই করা হয়নি। এর মধ্যে শুটিং শুরু হলো। সকাল হলেই স্পটে যাই। আসি সেই রাতে। ঘর সাজানোর সময় কই! তবে এই ছবির পর একটা ছোট্ট বিরতি নিয়ে ঘরটা মনের মতো করে সাজাতে চাই।

 

মা হচ্ছেন নাকি...!

-(হা হা হা) আমি নিজেই তো এখনো শিশু। একজন মায়ের যে দায়িত্ব থাকে, সেটা পালন করার যোগ্যতা হলেই মা হব। আরো বছর পাঁচেক তো লাগবেই।

 

নতুন পরিকল্পনা?

-সব পরিকল্পনা অভিনয় নিয়েই। অন্য কোনো চিন্তা মাথায় আনছি না। ঠিক করেছি, বছরে দু-তিনটির বেশি ছবি করব না।’

৯ জুন, ২০১৬/এমটিনিউজ২৪/এসপি/এমএন

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে