এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হাওড়ে তলিয়ে যাওয়া স্বপ্নের ফসল পানির নিচ থেকে ডুবন্ত অবস্থায় কাটছেন কৃষকরা। চোখের সামনে সারা বছরের খোরাক নষ্ট হওয়ার যন্ত্রণা সইতে পারছেন না অনেকে। ধানের লোকসান দেখে জমিতেই অচেতন হয়ে মৃত্যু হয় আহাদ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের।
শনিবার (২ মে) সকাল ৮টার দিকে শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে যান গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের কৃষক আহাদ মিয়া। এসে দেখতে পান তার আবাদ করা ছয় বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কষ্টে আর হতাশায় ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে ঢলে পড়েন এই কৃষক। পরে জমিতেই মারা যান তিনি।
নিহত আহাদ মিয়া উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মৃত কৃষকের বড় ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আহম্মদ হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, তার ভাই কৃষক আহাদ মিয়া ৬ বিঘা জমিতে ব্রি-২৯ ধান আবাদ করেন। শনিবার সকাল ৮টার দিকে কয়েকজন শ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে জমিতে ধান কাটতে যান আহাদ। গিয়ে দেখেন ক্ষেতের সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এই দৃশ্য দেখে তিনি ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন। পরে সেখানেই মারা যান তার ভাই আহাদ। পরে শ্রমিকসহ স্থানীয় লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
জোহরের নামাজের পর আহাদের মরদেহ দাফন করা হয়। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। গোয়ালনগর ইউনিয়নের কৃষক দুধ মিয়া জানান, আহাদ মিয়া জমির সব ধান তলিয়ে যেতে দেখে স্ট্রোক করে জমিতেই মারা যান। একই কারণে গোয়ালনগর এলাকার অন্তত তিনজন কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গোয়ালনগর ইউনিয়নের চার থেকে পাঁচ হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে। খলায় রাখা ধানও বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নিহতের ভাতিজা ফারুক মিয়া জানান, ৫০ হাজার টাকা ঋণ করে চাচা ছয় বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। সব জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি সহ্য করতে না পেরে জমির আয়লেই চাচা স্ট্রোক করে মারা গেছেন।
বিষয়টি নিয়ে নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, আমি প্রতিনিধি পাঠিয়েছি, কৃষকের খোঁজ খবর নিয়েছি। জেনেছি জমিতে ধান তলিয়ে যেতে দেখে তিনি ঘটনা স্থলে অচেতন হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন আরো জানান,আমরা ইতিমধ্যে দুই শতাধিক কৃষকের তালিকা প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে ৩ মাস ভর্তুকি দেয়া হবে।
এছাড়া আগামীকাল থেকে সরকারের যে ধান ক্রয় অভিযান শুরু হচ্ছে, সেই ক্রয় অভিযানে হাওড়ের কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
তবে মৃত্যুর বর্ণনা শোনে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।