রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৩৭:৫৪

প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনের নাগরিক সোহান চাও (৩৮)। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ। বিয়ের পর এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকালে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে কৌতূহলী মানুষ আয়েশা সুলতানার (২১) বাড়িতে ভিড় করেন। আয়েশা কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামের আবদুল আলিমের মেয়ে। সোহান চাও চীনের হেনান প্রদেশের নানইয়াং শহরের বাসিন্দা সংফু ফ্যাংয়ের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আয়েশা সুলতানার সঙ্গে সোহানের পরিচয় হয় একটি চীনা ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে। প্রায় দুই মাস অনলাইনে যোগাযোগের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সং হানজাও বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর গত ১৪ জুন এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলামী রীতিতে আয়েশা সুলতানাকে বিয়ে করেন।

আয়েশা সুলতানা জানান, তিন মাস আগে ‘ওয়ালটপ’ নামের একটি অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোহান চাওয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নিয়মিত কথোপকথনের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরে গত ১২ জুন বাংলাদেশে আসেন সোহান। পরে ১৪ জুন তাকে নিয়ে ঢাকায় যান আয়েশা। সেখানে হাইকোর্টের আইনজীবী লিমা আক্তারের মাধ্যমে সোহানের বাবা সংফু ফ্যাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। উভয় পরিবারের সম্মতিতে সোহান ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ। এরপর তারা বিয়ে করেন এবং বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন।

আয়েশার বাবা আবদুল আলিম বলেন, সোহান বাংলাদেশে আসার পর আমরা ঢাকায় গিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিই। তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পর মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দিই। বিয়ের পর তারা ঢাকায় থাকছেন। মেয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। পরে তাকে চীনে নিয়ে যাবে। সবকিছু জেনেশুনেই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি।

স্থানীয় যুবক আলিম হোসেন বলেন, প্রায়ই দেখা যায়, বিদেশ থেকে এসে বিয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীদের নিজ দেশে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে ফেলা হয়। তাই এ ধরনের বিষয়ে সরকারের আরও নজরদারি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। বিস্তারিত জানার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে