বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০১৭, ০১:৪৩:৫১

'তোর পোলার জন্যই আমরা আজ কাঠগড়ায়'

 'তোর পোলার জন্যই আমরা আজ কাঠগড়ায়'

নিউজ ডেস্ক: স্বর্ণের বৈধ উৎস জানতে আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদ এবং তার অংশীদার দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।  গতকাল বুধবার কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা সদর দপ্তরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে তারা আপন জুয়েলার্সের সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণ ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ডের কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি।  কাগজপত্র দাখিল করতে তারা সময় চেয়েছেন।

আগামী ২৩ মে আবারও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

একটি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সামনেই গুলজার ও আজাদ তাদের ভাই দিলদারকে বলতে থাকেন, 'তোর পোলার জন্যই আজ আমরা কাঠগড়ায়।  তোর পোলা বন্ধুদের নিয়ে হোটেলে গিয়ে অনৈতিক কাজে জড়ায়।  তার ফল এখন আমরা ভোগ করছি।  এসব কাজে না জড়ালে আজ আমাদের এখানে আসতে হতো না।  সাফাতের জন্য আমাদের এত দিনের সম্মান ভূলুণ্ঠিত হলো। ' তিন দফায় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।  গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাদের নিবৃত করেন।

এ ছাড়া অবৈধভাবে মদ মজুদের অভিযোগে রেইনট্রি হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. আদনান হারুনকে তলব করলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজির হননি।  তার পক্ষে দুই আইনজীবী হাজির হয়ে এক মাসের সময় আবেদন করেন।  তবে শুল্ক গোয়েন্দারা তাকে ছয় দিনের সময় দিয়েছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, আপন জুয়েলার্সের মালিকপক্ষ এক রতি স্বর্ণও বৈধ হিসেবে দেখাতে পারেনি।  আবারও তাদের সময় দেওয়া হয়েছে।  ২৩ মে তাদের তলব করা হয়েছে।  একই তারিখে রেইনট্রি কর্তৃপক্ষকে ডাকা হয়েছে।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে দিলদার আহমেদ দাবি করেন, পাঁচটি শোরুম থেকে জব্দ করা সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণের মধ্যে কিছু গহনা গ্রাহকের।  মেরামত করার জন্য তারা আপন জুয়েলার্সের কাছে জমা দেন।  এ ছাড়া কিছু গহনা কেনার বৈধ কাগজ তাদের শোরুমে রয়েছে।  দিলদারের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ আজ দুপুরে আপন জুয়েলার্সের সিলগালা করা পাঁচটি শোরুম সাময়িক খুলে এসব কাগজপত্র যাচাই করে দেখবে।  এ ছাড়া গ্রাহকের স্বর্ণ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী ২২ মে দেওয়া হবে।  তবে সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি স্বর্ণ গ্রাহকের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

'আমি অবৈধ ব্যবসা করি না' :শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের আশপাশ এলাকায় গতকাল সকাল থেকে ছিল কড়া নিরাপত্তা।  দুপুর পৌনে ১২টায় দিলদার আহমেদ ও তার দুই ভাই শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে যান।  বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর থেকে বের হয়ে দিলদার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি অবৈধভাবে স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের ব্যবসা করি না।  কোনো অবৈধ গহনা আমার দোকানে নেই।  আমি ৪০ বছর ধরে সততার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি।  আমার বিরুদ্ধে যদি ডার্টি মানি ও স্বর্ণ চোরাচালানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে সব স্বর্ণর্ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।  কারণ, কেউ এর বাইরে নয়। ' আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি দোকান সিলগালা করার বিষয়ে তিনি বলেন, 'শুল্ক গোয়েন্দার অধিকার রয়েছে দোকান তল্লাশি করার।  তারা দোকান থেকে স্বর্ণর্ ও ডায়মন্ড জব্দ করেছেন।  আমরা কাগজপত্র দেখাব, সে জন্য সময় নিয়েছি। ' গত ১৪ মে আপন জুয়েলার্র্সের পাঁচটি দোকান থেকে সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণ ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড জব্দ করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে বের হয়ে আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির সাংবাদিকদের বলেন, রেইনট্রি হোটেলে মদ উদ্ধারের বিষয়ে আদনান হারুনকে তার বক্তব্য প্রদানের জন্য শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরে আজ (বুধবার) আসার কথা ছিল।  তিনি আসতে চেয়েছিলেন।  কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।  এ কারণে এক মাস সময়ের আবেদন নিয়ে এসেছিলাম আমরা।  সেই পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মইনুল খান সময় মঞ্জুর করে ২৩ মে বেলা ১১টায় আদনান হারুনকে হাজির হওয়ার দিন ধার্য করেছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী বলেন, আদনান হারুনের রক্তচাপ বেড়েছে।  তবে আদনানের অসুস্থতার বিষয়ে কোনো চিকিৎসকের সনদ জমা দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

স্বর্ণের নিলাম ও বাণিজ্যিক আমদানি সহজ করতে চিঠি :জব্দ স্বর্ণের নিয়মিত নিলাম এবং বাণিজ্যিকভাবে আমদানি সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।  চিঠিতে বলা হয়েছে, 'স্বর্ণ কোনো নিষিদ্ধ পণ্য নয়।  দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বৈধভাবে স্বর্ণ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দাবি জানিয়ে আসছিল।  শুল্ক গোয়েন্দাসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চোরাকারবারিদের কাছ থেকে যে স্বর্ণ আটক করে, তা নিলামে বিক্রির একটি বৈধ প্রক্রিয়া রয়েছে।  তবে ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশ ব্যাংকে এ ধরনের কোনো নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি।  বৈধভাবে স্বর্ণ আসার আর কোনো উৎস না থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।  নিলাম করা ও আমদানি নীতি মেনে চললে এ ব্যবসায় অসাধুতা দূর হবে।-সমকাল
এমটিনিউজ২৪/টিটি/পিএস

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে