ঢাকা: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যার তালিকা হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘২৫ মার্চের গণহত্যা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।
সেমিনারে দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় ২৫ শে মার্চের গণহত্যা নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় সদস্য ব্লগার রাজীব হায়দারকে হত্যা ও ড. জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
এ বিষয়ে সেমিনারের অন্যতম আলোচক ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমি স্বদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে দ্বিমত করছি। রাজীব হায়দার হত্যা ও জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা গণহত্যা নয় বলে আমি মনে করি। এগুলো টার্গেট কিলিং। একটি ধর্মীয়-রাজনৈতিক গোষ্ঠী তালিকা তৈরি করে বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের হত্যা করেছে। ১৯৭১ সালেও একইভাবে তালিকা হয়েছিল, আলবদররা এই তালিকা তৈরি করেছিল। সাম্প্রতিককালের রাজীব হায়দার থেকে জাফর ইকবাল পর্যন্ত হত্যার তালিকা হেফাজতে ইসলামের প্রধান আহমেদ শফী করেছেন।
শাহরিয়ার কবির বলেন, শফি ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে তিনি কতগুলো নাম বলেছেন। সেখানে রাজিব ও জাফর ইকবালের নাম ছিল, আমার নাম ছিল, মুনতাসির মামুননের নাম ছিল। চিঠিতে আমাদের নাস্তিক, মুরতাদ কাফির বলা হয়েছে। মুরতাদ হচ্ছে যারা ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করে। ফতোয়া আছে মুরতাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তাই তাদের হত্যা এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক সাইফুল আলম, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যাটার্জি।
উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাবি ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ড. জাফর ইকবালকে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল। ঘটনাস্থলেই শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এরপর ১১ দিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে হামলাকারী ফয়জুর রহমান পরে বলেন, ‘ভূতের বাচ্চা সোলায়মান’ নামক উপন্যাস লিখে নবী সোলায়মান (আ.) কে ব্যঙ্গ করায় অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু, তাই তাকে হত্যা করার জন্য হামলা করেছি। উনি নিজেও নাস্তিক এবং অন্য সবাইকেও নাস্তিক বানানোর জন্য প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। তার লেখা পড়ে মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছে।
এমটিনিউজ২৪.কম/টিটি/পিএস