এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : খুলনায় টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমায় বাজারে বেড়েছে সবজির দাম। মাছের দামও কমছে না। এতে বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। রোববার (৯ আগস্ট) খুলনা মহানগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজার, নিউ মার্কেট বাজার ও পাইকারি কাঁচা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা কেজি, গোল বেগুন ৬০-৭০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতিটি ৫০-৬০ টাকা, লাউ প্রতিটি আকারভেদে ৫০-৬০ টাকা, কেজিপ্রতি মিষ্টি কুমড়া ৪০-৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০-৫০ টাকা এবং ধুন্দল ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম গত সপ্তাহে ৩০০ টাকা ছিল। এ সপ্তাহে কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমেছে। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়, বড় রসুনের কেজি ৯০-১০০ টাকা এবং আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা কেজি দরে, সোনালি ২৪০ টাকা কেজি দরে ও লেয়ার ২৩০-২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে রুই আকারভেদে ২২০-২৫০ টাকা, ভেটকি মাছ আকারভেদে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি, চন্দনা ইলিশ ২৭০-৩০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৫০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ১৩০-১৬০ টাকা, পাবদা ৩০০-৩৫০ টাকা দরে, পাঙাশ ১৬০-১৮০ টাকা, কাতল ২৪০-২৫০ টাকা কেজি এবং ছোট মাছ ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি ও খুচরা বাজারের সবুজই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টিতে সব ধরনের সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এজন্য সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাস আগেও সবজি সরবরাহ ভালো ছিল। একদিকে স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে অন্যদিকে বাইরের বাজারে সবজির চাহিদা বেড়েছে। এজন্য খুলনার স্থানীয় বাজারে সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বৃষ্টি কমলে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম নাগালে আসবে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
পাইকারি বাজারের সবজি ব্যবসায়ী হানিফ শেখ বলেন, খুলনার বাজারগুলোতে স্থানীয় পর্যায়ের সবজি আসছে না বললেই চলে। বৃষ্টিতে ধাপে ধাপে শুধু সবজির দাম বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি আর দাম কমার সম্ভাবনা নেই। পাইকারি বাজারে সবজির আমদানি অনেক কমেছে । তবে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম অনেকটা কমে যাবে।
নিউমার্কেট বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা আতাউর মিয়া বলেন, একদিকে বাজারে সরবরাহ কম অন্যদিকে বিক্রিও কমেছে। কাঁচামরিচের দাম বৃদ্ধির পরে মরিচের বিক্রিও কমেছে। সব মিলিয়ে বৃষ্টিতে বিক্রির পরিমাণও কমেছে। সকালে বৃষ্টি হলে সেদিন বাজারে ক্রেতা কমে যায়। তবে বৃষ্টি কমলে আর সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে ব্যবসা বাড়বে।
মাছ বিক্রেতা রিপন গাজী বলেন, মাছের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। কিছু কিছু সামুদ্রিক ও ঘেড়ের মাছের দাম সারা বছরই বেশি থাকে। তবে বৃষ্টির কারণে মাছবাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কমেছে। চিংড়ি মাছের দাম কিছুটা বৃদ্ধির কারণে খুচরা ক্রেতা পর্যায়ে বিক্রি কমেছে।
বাজারে আসা ক্রেতা লিপি আক্তার বলেন, বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। অনেক সবজির দাম ৫০ টাকার বেশি। কাঁচামরিচের দাম এখন দেখছি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে পেঁয়াজ রসুনের দাম কম আছে। মাছ বাজারেও চড়া দাম। ৪০০-৫০০ টাকার ট্যাঙরা মাছ এখন ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির দামও বেড়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং প্রয়োজন। তাহলে দাম নাগালে আসার সম্ভাবনা বেশি।
ক্রেতা নাসির হোসেন বলেন, হঠাৎ সবজির দাম বেড়েছে। মুরগির কেজিতেও ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। বাজারে ভারসাম্য থাকা উচিত। কিন্তু সে ভারসাম্য খুলনার বাজারে কখনোই ছিল না, এখনো নেই।