এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : ট্রেন যাত্রার যময় প্রয়োজনীয় জিনিস আমরা যতটা পারি সঙ্গে গুছিয়ে নিয়ে উঠি। কিন্তু জানেন কি, যে সবকিছু নিয়ে ট্রেনে ওঠা যায় না? সেগুলি সঙ্গে আছে দেখতে পেলেই সোজা গ্রেফতার হতে পারেন। আসলে এই জিনিসগুলি বহন করা ট্রেনে একেবারে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
ভ্রমণের পরিকল্পনা করার পর সবার আগে ট্রেনের টিকিট এবং হোটেল বুকিং-এর কাজটা সেরে নেন সকলে। এরপরেই আসে গোছগাছের পালা। বিদেশ বিভুঁইতে গিয়ে যাতে সমস্যায় পড়তে না হয় সেজন্য, প্রয়োজনীয় জিনিস যতটা সম্ভব সঙ্গে নিয়েই বেড়াতে বের হওয়া মধ্যবিত্তের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ভ্রমণযাত্রা হলে বেশি জিনিস আর কম দিনের যাত্রা হলে যে কম মালপত্র থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। অতিরিক্ত লাগেজের জন্য বিমানে জরিমানা হয়। ট্রেনে অবশ্য তা হয় না। এমন কিছু জিনিস রয়েছে যেগুলি ট্রেনে নিয়ে যাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সেগুলি কী জানেন?
অতীতে ট্রেনে করে বাজি পটকা নিয়ে যাতায়াতের নজির ছিল ভূরি ভূরি। কিন্তু বর্তমানে ট্রেনে করে বাজি-বটকা বহন করা বেআইনি। দীপাবলির সময় অনেকেই লুকিয়ে চুরিয়ে বাজি পটকা নিয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন বটে, তবে একবার ধরা পড়লে কিন্তু সোজা শ্রীঘরে যেতে হয়। না হলে বড় অঙ্কের জরিমানা হয়।
পাশাপাশি দাম দিয়ে কেনা বাজি-পটকা আটক করা হয় এবং সেগুলি আর ফেরত পাওয়া যায় না। তাছাড়া নিজেদের নিরাপত্তার কারণেও বাজি-পটকা নিয়ে ট্রেনে ওঠা অনুচিত। কোনোকারণে তাতে আগুণ লেগে গেলে বা বিস্ফোরণ হলে ফল হয় মারাত্মক। মানুষের প্রাণহানি বা আহত হওয়ার সম্ভাবনা তো রয়েইছে, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ট্রেনটিও। তাই ট্রেনের মধ্যে ভুলেও বাজি-পটকা নিয়ে উঠবেন না। বিপদ কিন্তু বলে কয়ে আসে না।
স্টোভ বা গ্যাস সিলিন্ডার: অনেক সময় দেখা যায় কোনও কোনও যাত্রী ট্রেনে স্টোভ বা গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে উটে পড়েন। রেলওয়ে এসব নিয়ে ভ্রমণের অনুমতি দেয় না। ট্রেনে করে গোপনে এসব জিনিস বহন করলে বা ধরা পড়লে জেল হতে পারে। ট্রেন যাত্রার সময় নিষিদ্ধ জিনিসপত্র বহন করা অপরাধ। ট্রেন যাত্রার সময় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে গেলে আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে। তবে খালি সিলিন্ডারটি খালি হতে হবে।
অ্যাসিড: ট্রেনে অ্যাসিডের মতো জিনিস সঙ্গে নেওয়া যায় না। অনেক যাত্রী বোতলে অ্যাসিড লুকিয়ে নিয়ে ওঠেন। ট্রেনযাত্রার সময় এটি একেবারেই করবেন না। এটা করতে গিয়ে ধরা পড়লে জেল পর্যন্ত যেতে হতে পারে। এছাড়াও বড়সড় জরিমানা হতে পারে। নিষিদ্ধ বস্তু নিয়ে রেলভ্রমণ করলে রেলওয়ে আইনের ১৬৪ ধারার অধীনে শাস্তি হতে পারে। সেই সঙ্গে এক হাজার টাকা জরিমানা বা তিন বছরের কারাদণ্ডও হতে পারে।
প্রায়ই দেখা যায় ট্রেনের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা মোবাইলে কথা বলেন। এরকম করলে জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ট্রেনে ওঠার এবং নামার সময় ফোনে কথা বলা এড়িয়ে চলুন।
ট্রেন ভ্রমণের সময় খেয়াল রাখবেন আপনার কোমরে ঝুলানো ব্যাগ যেন ট্রেনের বাইরে না বেরিয়ে থাকে। অনেকে ঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছতে না পেরে ছুটে গিয়ে ট্রেন ধরতে যান। এরকম করলে যে জীবহানির সম্ভাবনা বেড়ে যায় তা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। ট্রেন স্টেশন ছাড়ার অন্ততপক্ষে পাঁচ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছান। তাহলে তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে উঠতে হবে না।-এই সময়