এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ খাবারই আমাদের পুষ্টি জোগায়। তাই ডায়েটে কোনও ভুল ভ্রান্তি হলে আদতে শরীরে দেখা দেয় গুরুতর সমস্যা। তাই বিশেষজ্ঞরা বারবার খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিতে বলেন।
বিজ্ঞান আমাদের জানিয়েছে, খাবার ছাড়া আমরা চলতে পারব না। ফোনের যেমন চার্জ দরকার কাজ করা জন্য, ঠিক তেমনই আমাদের প্রয়োজন হল খাবার। খাদ্য ছাড়া আমরা অপারগ। কারণ এটাই হল শক্তির উৎস। তারপরই আমরা কাজ করতে পারি।
তবে শুধু খেলেই হল না, বরং কী ভাবে খাচ্ছেন- এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। আসলে আমাদের কিছু ভ্রান্ত ধারণা দেহে সমস্যা তৈরি করে। এমনকী তার থেকে জন্ম নেয় নানা অভ্যাস। এই দিকটার খেয়াল রাখা সবার আগে জরুরি। তাই তো বাড়ির বড়রা বলেন খাবার খাওয়ার সময় কথা বলতে নেই।
তবে এই কথা সত্যি না মিথ্যে সেই সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই। খাওয়ার সময় কেন কথা বলতে নেই? জানুন আসল সত্যিটা!
এই প্রসঙ্গে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের প্রধান ডায়েটিশিয়ান মীনাক্ষী মজুমদার জানান, বাড়ির বড়রা অনেক সময় ঠিকই বলেন। আমাদের শুধু সঠিক কথাটা ধরতে হবে।
১. খাওয়ার সময় কথা বলতে নেই?
মীনাক্ষী মজুমদার জানালেন, খাওয়ার বলা কথা বলা উচিত নয়। আসলে আমাদের খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী পাশাপাশি রয়েছে। খাবার খাওয়ার সময় কথা বললে খাদ্যনালীতে খাবার না গিয়ে শ্বাসনালীতে যেতে পারে। এই কারণে বিরাট সমস্যা তৈরি হয়। তখন দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এমনকী শ্বাস নেওয়াও যায় না। তাই বলা হয় খাওয়ার সময় কথা না বলতে। এই অভ্যাস ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
২. খাদ্যনালীতে গেলে কী করবেন?
আপনাকে আপৎকালীন ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রথমে কেশে খাবারের অংশ বের করার চেষ্টা করুন। সেটা সম্ভব না হলে কাউকে বলুন পিছন থেকে হাত দিয়ে আপনার বুকের তলা চেপে ধরতে। তারপর চাপ দিতে বলুন। এর মাধ্যমে ফুসফুসে বায়ুর চাপ তৈরি হবে। এই চাপ খাবারের অংশকে বাইরে বের করে দেবে। ছোটদের ক্ষেত্রে উপুর করে শুইয়ে দিয়ে পিঠে চাপ দিন বা বুকের তলায় চাপ দিতে পারেন। এভাবে কাজ না হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।
৩. খেতে খেতে কথা বললে হজম হয়?
মীনাক্ষী মজুমদার বলেন, ঠিকই শুনেছেন। খাবার খাওয়ার সময় আমরা টিভি দেখতে বা অন্য কাজ করতে বারণ করি। কারণ খাবারের দিকে মনোনিবেশ করা সবার আগে জরুরি। আপনি এই কাজটা না করলে দেখা দিতে পারে সমস্যা। তখন খাদ্য হজম হতে চায় না। আসলে এখন ব্যস্ততার দরুন মানুষ দ্রুত খেয়ে ফেলেন। চেবানো হয় না। তাই হজমে গোলোযোগ হতে পারে। তাই খাওয়ার সময় কথা কম বলুন।
৪. একটু ধীরে : অনেকে আবার দ্রুত খাবার খান। এভাবে খাবার খেলেও পেটের গোলোযোগ হতে পারে। খাবার হজমের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায় মুখ থেকেই। এখানে থাকা লালরস খাবার হজমে সহায়ক হয়। তবে অনেকে দ্রুত খেতে গিয়ে গিলে খান। ফলে দেখা দেয় সমস্যা। এই কারণে হজমের গণ্ডগোল দেখা দিতে পারে। তাই একটু ধীরে খান। বেশি দ্রুত খাবেন না। এই অভ্যাস ছোট বয়স থেকেই শিশুর মধ্যে তৈরি করার চেষ্টা করুন।
৫. সমঝে চলুন : জানি সারাদিনের পর খাওয়ার সময়ইটুকুই সকলে একসঙ্গে কাটান। তবে এখানেও নিজের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখতে হবে। তাই খাবার খাওয়ার আগে বা পরে কথা বলুন। খাওয়ার মাঝে কথা বলবেন না। এতে জটিলতা বাড়বে, এমনই পরামর্শ দিলেন মীনাক্ষী মজুমদার। তথ্যসূত্র : এই সময়
Disclaimer: প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।