এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : রাজধানীতে যানজট যেন নিত্যসঙ্গী। অফিস বা বাচ্চাদের স্কুল ছুটি হয়েছে, চিন্তার যেন অন্ত নেই। এখন সে চিন্তাকে দূরে ঠেলে দুর্ভাবনায় এসেছে মেয়েদের স্কুটি চালনা। চাকরি, বাজার, সন্তানকে স্কুলে আনা-নেওয়া কিংবা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাসহ বিভিন্ন কাজে আর বিড়ম্বনা নয়।
মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্মজীবী, গৃহিণী, তরুণীসহ সবারই প্রতিদিনই বেরোতে হয় পথে। যদিও গন্তব্যে যাওয়ার পথটা তাদের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বস্তির, অনিরাপদও বটে। লিঙ্গবৈষম্য ও গণপরিবহনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের অনেককে।
এসব দুর্ভাবনাকে লাঘব করতে পারে একটি যান, যান নামস্কুটি। স্বাধীনভাবে পথ চলতে নারীদের ভরসা হয়ে উঠেছে এ বাহন। এখন প্রতিদিন অসংখ্য নারীর যাতায়াতের সঙ্গী স্কুটি। একসময় শখের থাকলেও ইদানীং প্রয়োজনেই স্কুটি ব্যবহার করছেন দেশের নারীরা।
গত বছর নারী দিবসে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘স্কুটি’তে মেয়েদের এ বাহন বেছে নেওয়ার বাস্তবসম্মত প্রেক্ষাপট দেখা গেছে। গল্পে মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি মেয়ে গণপরিবহনে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই হয়রানির শিকার হয়। একপর্যায়ে সে একটি স্কুটি কেনে।
সে জন্যও অবশ্য তাকে সংগ্রাম করতে হয়। নারীর গাড়ি চালানো এখন আর অতটা বাঁকা চোখে দেখা হয় না সমাজে। সময়ের সঙ্গে মানুষের চিন্তাধারায় পরিবর্তন এসেছে। তথাপি স্কুটি এখনো সবার নাগালে না থাকলেও নিত্যদিনের জ্যাম, গণপরিবহনের ভাড়া ও দুর্ভোগের কথা ভাবলে বরং এটি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের।
তা ছাড়া স্কুটি জ্বালানি ও সময়ও সাশ্রয়ী। এটি চালানো তুলনামূলক সহজ। এর পায়ের সামনে বেশ খানিকটা জায়গা খালি থাকে বলে জিনিসপত্র আরামে নেওয়া যায়। স্কুটারের ইঞ্জিন ও তেলের ট্যাঙ্কি পেছনে হওয়ায় সামনের অংশটা ফাঁকা থাকে। ফলে বসা তুলনামূলক সহজ। ওজনের দিক থেকেও স্কুটি তুলনামূলক হালকা।
এমন বিভিন্ন কারণে স্কুটির ব্যবহার বাড়ছে। স্কুটি চালানোর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সাহস, পরিবারের সমর্থন এবং যে কোনো ধরনের পরিস্থিতিতে ভয় না পেয়ে স্বাভাবিকভাবে চালানো। তবুও স্কুটি চালনায় দক্ষ হওয়ার পরেই সড়কে বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বেশিরভাগ স্কুটারে গিয়ার শিফটিংয়ের বদলে অটো-ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা থাকে।
ফলে চালানোর বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। স্কুটির ক্ষেত্রে পোশাক বাছাই নিয়ে দ্বিধায় থাকেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় জানা থাকলেই আনন্দ নিয়ে স্কুটি চালানো যায়। মেয়েরা সালোয়ার-কামিজ, ভেস্ট বা জ্যাকেট ব্যবহার করতে পারেন। শুধু লক্ষ রাখতে হবে পোশাক যেন আর্দ্রতামুক্ত শুকনো হয়।
ভেজা পোশাকে স্কুটি চালানো কিছুটা ঝুঁকির। আবার প্রখর রোদে সানবার্ন হওয়ার শঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে পুরো শরীর ঢাকার উপযোগী সুতির পোশাক পরে স্কুটি চালানো ভালো।