এক্সক্লসিভ ডেস্ক : আমাদের দেশে ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের মিল খুব কমই দেখা যায়। অধিকাংশ পরিবারেই দেখা যায় ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রেষারেষি। এসবের মাঝেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝিনাইদহের যমজ দুই ভাই হানজিলার রহমান ওরফে ঠান্ডু মিয়া ও তানজিলার রহমান ওরফে মন্টু মিয়া।
এই দুই ভাইয়ের জন্মের ব্যবধান মাত্র ১০ মিনিট। জন্মের পর থেকে একত্রে বেড়ে ওঠা তাদের। পড়ালেখাও করেছেন একই সঙ্গে। পরীক্ষার হলে দুজন আলাদা আলাদা ছিটে বসেও দুজনের নম্বর ছিল সমান। পড়ালেখা শেষে চাকরিও পেয়েছেন একই সঙ্গে। একই কর্মস্থলে দুই ভাই যোগ দিয়েছেন একই দিনে।
দুই ভাই অবসরেও গেছেন একসঙ্গে। ঠান্ডু মিয়া ও মন্টু মিয়ার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বানিয়াকান্দর গ্রামে। চাকরি থেকে অবসরে যাবার পর দুই ভাই মিলে বাড়িতেই তৈরি করেছেন মিনি পার্ক। দিনের বেশির ভাগ সময় তাদের কাটে ওই মিনি পার্কে। বাবা বিশারত আলী অনেক আগেই মারা গেছেন। মা রাহেলা নেছা এখনো বেঁচে আছেন।
তারা তিন বোন আর দুই ভাই। ঠান্ডু মিয়ার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। মন্টু মিয়ার তিন মেয়ে। দুই ভাই পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ছিলেন এখন অবসরে আছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই ভাই বাড়িতে তৈরিকৃত মিনি পার্কে কাজ করছেন।
এক সঙ্গে বসে দুই ভাই পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে গল্প করছেন। আবার দুই ভাই একই সঙ্গে গলা মিলিয়ে গান ও ছড়া বলছেন। দুই ভাইয়ের চেহারা ও পোশাকের কোনো পার্থক্য নেই। তাই আলাদা করে চেনা দুষ্কর। দেশের বিভিন্ন স্থানে একই অফিসে চাকরি করে জীবন কাটিয়েছি দুই ভাই।
২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হিসেবে একসঙ্গে অবসরে গেছি। আমরা জীবনে অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। দুই ভাই একই সঙ্গে হারিকেনের আলোই একটি বই পড়েছি। আমাদের ছোটবেলা এক সঙ্গেই কেটেছে।