সোমবার, ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২৩:৪১

জানেন শরীরে কী ঘটবে টানা ১৪ দিন চিনি না খেলে?

জানেন শরীরে কী ঘটবে টানা ১৪ দিন চিনি না খেলে?

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : চিনি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার প্রায় সর্বত্রই আছে। মিষ্টি খাবার তো বটেই, এমনকি অনেক তথাকথিত ‘স্বাস্থ্যকর’ খাবারেও চিনি থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, দাঁতের ক্ষয়সহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোপুরি চিনি বাদ দেওয়া কঠিন হলেও, এর পরিমাণ কমালে শরীরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

খাবারে তালিকায় চিনি কমানোর প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ সেঠি। তিনি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক গাট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেই পারেন না যে, চিনি শুধু অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে না। এটি নীরবে ক্ষুধা, লোভ, ইনসুলিন এবং লিভারের চর্বিকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই আমি আমার রোগীদের ১৪ দিন ‘অ্যাডেড সুগার’ ছাড়া থাকার পরামর্শ দিই।”

চিনি ছাড়লে শরীরে কী পরিবর্তন আসে?

ডা. সেঠির মতে, চিনি কমানো শুরু করলে শরীরে ধাপে ধাপে পরিবর্তন দেখা যায়। শুরুতে মস্তিষ্ক নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করে। এ সময় চিনি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বিরক্তি এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, এটি আসলে ‘উইথড্রয়াল’ নয়; বরং মস্তিষ্কের পুনর্গঠনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

কয়েকদিন পর শরীর ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। তখন চিনি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা কমে আসে। পেট ফাঁপার সমস্যা কমে, বিকেলের দিকে হঠাৎ ক্লান্তি বা শক্তি কমে যাওয়ার প্রবণতাও হ্রাস পায়। একই সঙ্গে ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত হয়, অর্থাৎ শরীর শর্করা ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ হয়ে ওঠে।
 
দুই সপ্তাহ শেষে পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়। পেট তুলনামূলক চ্যাপ্টা লাগে, ঘুমের মান ভালো হয়, প্রকৃত ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। অপ্রয়োজনীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে এবং ফাস্টিং গ্লুকোজের মাত্রা উন্নত হয়। ওজন খুব বেশি না কমলেও শরীরের মেটাবলিজম উন্নত হয়; যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
 
ডা. সৌরভ সেঠি জানান, ১৪ দিন অতিরিক্ত চিনি না খেলে ইনসুলিন স্পাইক কমে, লিভারে অতিরিক্ত শর্করার চাপ হ্রাস পায় এবং শরীরে পানি জমে থাকার প্রবণতাও কমে। পাশাপাশি স্বাদের অনুভূতি নতুন করে ‘রিসেট’ হয় এবং ভিসেরাল ফ্যাটের নেতিবাচক সংকেতও হ্রাস পায়।

তিনি বলেন, “যাদের বারবার খাবারের প্রতি তীব্র লোভ, পেট ফাঁপা, ফ্যাটি লিভার, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, কম শক্তি ও ঘুমের সমস্যা রয়েছে— তাদের জন্য এই ১৪ দিনের চিনি-বিরতি বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।” সূত্র: এনডিটিভি

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে