এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : আজকের ব্যস্ত জীবনে প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হলো রেফ্রিজারেটর, যা নিয়মিত বাজারের ঝামেলা কমিয়ে দেয় এবং খাবার দীর্ঘ সময় টাটকা রাখে। কিন্তু অনেকেই ভাবেন, ফ্রিজে মাছ কতদিন রাখা নিরাপদ, কতদিন পরে রান্না করতে হবে—এই প্রশ্নগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মাছ সংরক্ষণের মূল সূত্র হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক প্যাকিং। মাছগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে এয়ারটাইট প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে শক্তভাবে সিল করতে হবে। এতে বাতাস ঢোকেনা এবং মাছ দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। ফ্রিজে বরফযুক্ত ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখা হলে মাছ আরও বেশি দিন টাটকা থাকে।
তাজা মাছের সংরক্ষণকাল:
-ছোট মাছ বা সামুদ্রিক খাবার যেমন চিংড়ি, স্ক্যালপ, স্কুইড: ১–২ দিন
-বড় মাছ যেমন টুনা, স্যামন, ট্রাউট, সোর্ডফিশ: ৩–৫ দিন
-তৈলাক্ত মাছ যেমন ম্যাকারেল, সার্ডিন, ব্লুফিশ: ৩ দিনের বেশি রাখা ঠিক নয়
যদি দুই দিনের মধ্যে রান্নার পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে ফ্রিজারের ব্যবহার বুদ্ধিমানের কাজ। ফ্রিজারে রাখার আগে মাছকে ফ্রিজার পেপার বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ে শক্তভাবে সিল করতে হবে। ব্যবহার করার সময় ধীরে ধীরে গলানো ভালো, যেমন: রান্নার আগের রাতে রেফ্রিজারেটরের নিচের তাক রেখে গলানো।
রান্না করা মাছ:
রান্না করা মাছ ফ্রিজে ২–৩ দিন ভালো থাকে। এর বেশি সময় রাখলে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় এবং খাদ্যজনিত ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পুষ্টিগুণ ও সতর্কতা:
-সঠিকভাবে হিমায়িত করলে প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন এ ও ডি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
-হিমায়িত মাছের স্বাদ ও টেক্সচারে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে।
-একবার গলে যাওয়া মাছ ফের ফ্রিজে রাখা যাবে না, এতে ব্যাক্টেরিয়া বৃদ্ধি পায় এবং খাবার অরক্ষিত হয়ে যায়।
সবশেষে, ভালো মাছ সংরক্ষণের প্রথম ধাপ হলো ভালো মাছ কেনা। তাজা মাছের রং উজ্জ্বল, গন্ধ স্বাভাবিক এবং ফিলে আর্দ্র ও টানটান হয়। ধূসর, নিস্তেজ বা শুকনো মাছ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। সঠিক সংরক্ষণে তাজা এবং হিমায়িত দুই ধরনের মাছই পুষ্টিকর ও নিরাপদ।