এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : বর্তমানে একটি বাড়িতে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, স্মার্ট টিভি বা ট্যাবসহ একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। তবে অনেক সময় দেখা যায়, বাসার একদিকে ইন্টারনেটের গতি ভালো থাকলেও অন্যদিকে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়ে বা একেবারেই পাওয়া যায় না।
এর প্রধান কারণ অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক রাউটার নির্বাচন না করা। তাই রাউটার কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করলে পুরো বাড়িতে ভালো ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট পাওয়া সম্ভব।
প্রথমেই রাউটারের কভারেজ বা সিগন্যাল পৌঁছানোর ক্ষমতা যাচাই করা জরুরি। ছোট বাসার জন্য সাধারণ রাউটার যথেষ্ট হলেও বড় বা বহুতল বাড়ির ক্ষেত্রে শক্তিশালী রাউটার প্রয়োজন। ৮০০ থেকে ১২০০ স্কয়ার ফিটের বাসায় মাঝারি কভারেজের রাউটার ভালো কাজ করে। কিন্তু ১৫০০ থেকে ৩০০০ স্কয়ার ফিট বা একাধিক তলা বিশিষ্ট বাড়িতে সাধারণ রাউটার ব্যবহার করলে অনেক জায়গায় দুর্বল সিগন্যাল বা ‘ডেড জোন’ তৈরি হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে মেশ ওয়াই-ফাই সিস্টেম কার্যকর সমাধান হতে পারে, যেখানে একাধিক ডিভাইস একসঙ্গে কাজ করে পুরো বাড়িতে সমান সিগন্যাল সরবরাহ করে।
রাউটারের ব্যান্ড প্রযুক্তিও ইন্টারনেটের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরোনো রাউটার সাধারণত ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে কাজ করে, যা দূর পর্যন্ত সিগন্যাল দিলেও গতি তুলনামূলক কম। বর্তমানে ডুয়াল ব্যান্ড রাউটার বেশি জনপ্রিয়, যেখানে ২.৪ গিগাহার্টজের পাশাপাশি ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড থাকে। ৫ গিগাহার্টজে গতি বেশি পাওয়া যায়, তবে এর কভারেজ কিছুটা সীমিত। অনেক ডিভাইস একসঙ্গে ব্যবহার করলে ট্রাই-ব্যান্ড রাউটার বা নতুন ওয়াই-ফাই ৬ প্রযুক্তি আরও ভালো পারফরম্যান্স ও স্থিতিশীলতা দিতে পারে।
রাউটার কেনার সময় বাজেট ও ব্যবহার বিবেচনাও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট বা মাঝারি ব্যবহারের জন্য সাশ্রয়ী ডুয়াল ব্যান্ড রাউটারই যথেষ্ট, কিন্তু বড় বাসা বা উচ্চগতির ইন্টারনেটের প্রয়োজন হলে উন্নত মানের রাউটার বা মেশ সিস্টেমে বিনিয়োগ করা ভালো। এছাড়া অ্যান্টেনার সংখ্যা, গিগাবিট ইথারনেট পোর্ট, সহজ সেটআপ, মোবাইল অ্যাপ সাপোর্ট এবং নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের ওয়ারেন্টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
সর্বোপরি, রাউটার স্থাপনের জায়গাটিও গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির মাঝামাঝি ও উঁচু স্থানে রাউটার রাখলে সিগন্যাল ভালোভাবে ছড়াতে পারে। দেয়াল বা বন্ধ জায়গায় রাখলে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহার করা ভালো, আর দূরের ডিভাইসের জন্য ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ড উপযোগী।