এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : গরমের মৌসুমে এসি, ফ্যান, ফ্রিজসহ নানা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ বিল বাড়ে। তবে শীতকালেও অনেকের বিল প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আসতে পারে। অপ্রয়োজনে যন্ত্র চালু রাখা, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ করে এমন বাতি ব্যবহার এবং ফ্রিজের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করার মতো বিষয়গুলো এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
দৈনন্দিন ব্যবহারে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলেই বিদ্যুৎ খরচ অনেকটা কমানো সম্ভব। এসি ও ফ্রিজের মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্র ব্যবহার করেও কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় মাসিক বিল।
১. সাধারণ বাল্বের পরিবর্তে এলইডি ব্যবহার
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অন্যতম সহজ উপায় হলো প্রচলিত বাল্বের বদলে এলইডি বা সিএফএল বাতি ব্যবহার করা। একই ধরনের আলো দিতে এসব বাতি তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ফলে নিয়মিত ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব।
২. নিয়মিত ফ্রিজ ডিফ্রস্ট করুন
ফ্রিজের ভেতরে অতিরিক্ত বরফ জমে গেলে এর শীতল করার কার্যক্ষমতা কমতে পারে। এতে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখতে ফ্রিজকে বেশি সময় কাজ করতে হয় এবং বিদ্যুৎ খরচও বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ফ্রিজ ডিফ্রস্ট করা ভালো।
এ ছাড়া গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে না রেখে কিছুটা ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়তা করতে পারে।
৩. ব্যবহার শেষে যন্ত্রের পাওয়ার বন্ধ করুন
টিভি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল চার্জারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার শেষে শুধু রিমোট বা পাওয়ার বাটন দিয়ে বন্ধ না করে সম্ভব হলে সুইচ ও মূল পাওয়ার সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ কিছু যন্ত্র স্ট্যান্ডবাই অবস্থাতেও অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।
৪. এসি চালানোর সময় দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন
এসি ব্যবহারের সময় ঘরের দরজা-জানালা এবং অন্যান্য খোলা জায়গা ভালোভাবে বন্ধ রাখা জরুরি। এতে ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ কমে। ফলে ঘর ঠান্ডা রাখতে এসিকে তুলনামূলক কম সময় কাজ করতে হয় এবং বিদ্যুৎ খরচও কমে আসে।
আবহাওয়া ও প্রয়োজন অনুযায়ী এসির বদলে সিলিং ফ্যান বা টেবিল ফ্যান ব্যবহার করাও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কার্যকর উপায় হতে পারে।
আরও যেভাবে বিদ্যুৎ খরচ কমাবেন
একসঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু না রাখা, দিনের আলো যতটা সম্ভব কাজে লাগানো এবং ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বাতি-ফ্যান বন্ধ করার অভ্যাস করা উচিত। দৈনন্দিন রুটিনে ছোট ছোট পরিবর্তন আনলেও মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কমাতে তার প্রভাব পড়তে পারে।
তাই অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার এড়িয়ে এসব সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে একদিকে যেমন মাসিক খরচ কমানো সম্ভব, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাড়বে সচেতনতা।