রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৫:৩৫

জানেন নিয়মিত ফুলকপি খেলে কী হয়?

জানেন নিয়মিত ফুলকপি খেলে কী হয়?

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : সকালে কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকে চারপাশ। হিমেল বাতাস আর শিশিরভেজা প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

সেই সঙ্গে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা ধরনের শীতকালীন সবজি। এসব সবজির মধ্যে অন্যতম ফুলকপি।
শীতের খাবারের তালিকায় ভাজি, তরকারি কিংবা মাছের ঝোল বিভিন্ন পদে ফুলকপি বেশ জনপ্রিয়। তবে স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগুণেও যে এই সবজি অনন্য, তা কি জানেন?

কম ক্যালরি, প্রচুর ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানে ভরপুর ফুলকপি শরীরের নানা উপকারে আসতে পারে।
এমনকি মস্তিষ্কের সুস্থতা থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্রের যত্নেও ভূমিকা রাখতে পারে এই সবজি। পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ফুলকপি রাখলে পাওয়া যেতে পারে বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে ফুলকপির এমন পাঁচটি উপকারিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

১. মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ও কার্যক্ষমতা ভালো রাখে 

ফুলকপিতে রয়েছে কোলিন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।

মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম, স্মৃতিশক্তি ও স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতার জন্য কোলিন প্রয়োজন। এটি অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। অ্যাসিটাইলকোলিন এমন একটি রাসায়নিক বার্তাবাহক, যা স্মৃতি, মেজাজ ও পেশির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই খাদ্যতালিকায় ফুলকপি রাখা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

২. ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

ফুলকপি ক্রুসিফেরাস গোত্রের সবজি।

এই গোত্রের অন্যান্য সবজির মধ্যে রয়েছে ব্রকলি, বাঁধাকপি, কেল ও ব্রাসেলস স্প্রাউট। এসব সবজিতে থাকে গ্লুকোসিনোলেটস নামের বিশেষ উদ্ভিজ্জ উপাদান। শরীরে বিপাকের সময় এসব উপাদান থেকে তৈরি কিছু যৌগ কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং ক্যানসার সৃষ্টির প্রক্রিয়া প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ফুলকপি খেলেই ক্যানসার প্রতিরোধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

৩. হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে

ফুলকপিতে রয়েছে ইন্ডোল-৩-কারবিনল নামের একটি উদ্ভিজ্জ যৌগ। ক্রুসিফেরাস গোত্রের বিভিন্ন সবজিতেও এই উপাদান পাওয়া যায়। শরীরে ইস্ট্রোজেনের বিপাক প্রক্রিয়ায় এটি ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে ফুলকপি। তবে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসা হিসেবে একে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

৪. শরীরের প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে

শরীরে দীর্ঘদিন প্রদাহ থাকলে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফুলকপিতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, কোয়ারসেটিন, সিনামিক অ্যাসিড ও বিটা-ক্রিপ্টোজ্যানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং কোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে এই সবজি।

৫. হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে 

হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্যও ফুলকপি উপকারী হতে পারে। এতে থাকা সালফোরাফেন নামের উদ্ভিজ্জ যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ফুলকপি খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হতে পারে।

যেভাবে ফুলকপি খাবেন 

ফুলকপির পুষ্টিগুণ পেতে এটি বিভিন্নভাবে খেতে পারেন। সবজি হিসেবে রান্না, হালকা ভাপে সেদ্ধ কিংবা অন্যান্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। অতিরিক্ত তেল-মসলা দিয়ে রান্না না করে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর উপায়ে খাওয়াই ভালো। রান্নার আগে ফুলকপি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেয়াও জরুরি।

শীতের বাজারে সহজলভ্য এই সবজি শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো একটি সবজি খেলেই সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় না। সুস্থ থাকতে প্রয়োজন সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।