এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : পেঁয়াজ চাষে ভাঙ্গা এলাকার খ্যাতি রয়েছে দীর্ঘদিনের। এখানে কয়েক ধরনের পেঁয়াজ চাষ হয়। এরমধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ অন্যতম। ভাঙ্গায় এ বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। প্রথম কয়েকদিনে দামও ভালো পেলেও গত কয়েকদিন ধরে দাম কমতে শুরু করেছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েন জেলার চাষিরা।
ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলা পেঁয়াজ চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানের কৃষকেরা ৪২ শতকে ১ বিঘা ও ৪০ কেজিতে এক মণ হিসাব করে থাকে। বর্তমানে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। গত বছর কৃষকেরা পেঁয়াজের দাম বেশি পাওয়ায় এ বছর ভাঙ্গায় পেঁয়াজ চাষ অনেক বেশি হয়েছে। ভাঙ্গা বাজার এ অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের হাট। সপ্তাহের প্রতি সোমবার ও শুক্রবার এখানে হাট বসে। ভাঙ্গা ও নগরকান্দাসহ আশেপাশের এলাকার লোকজন এ হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করে থাকে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা এ হাটে পেঁয়াজ কিনতে আসেন।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভাঙ্গা হাটে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পেঁয়াজ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। পেঁয়াজ চাষিরাও বেশ খুশি ছিলো। কিন্তু ১ সপ্তাহ না যেতেই দাম কমে গিয়েছে। ভাঙ্গা ও আশেপাশের এলাকায় এখন প্রতি মন পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে এক হাজার দুই শত টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ করে দাম এভাবে কমে যাওয়ায় চাষিরা খুবই হতাশ।
ভাঙ্গা পৌরসদরের ৩ নং ওয়ার্ডের চণ্ডিদাসদী মহল্লার পেঁয়াজ চাষি নূর আলম মুন্সী বলেন, ' আমি আড়াই বিঘা (১০৫ শতক) জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কিন্তু দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়েছি। পেঁয়াজ চাষ করতে বেশ টাকা খরচ হয়েছে।'
ভাঙ্গার পেঁয়াজ চাষি জাহাঙ্গীর মিয়া (৪৭) জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন অনেক ভালো হলেও দাম কমে যাওয়ায় তিনিও হতাশ।
তিনি আরও জানান, এ বছর পেঁয়াজ চাষ করতে খরচ বেশি হয়েছে। গুটি পেঁয়াজের দাম বেশি ছিলো। মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করতে গেলে গুটি পেঁয়াজ বপন করতে হয়। এর পাশাপাশি দিনমজুরের বেতন, সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেশি ছিলো। এখন দাম কম।
ভাঙ্গা পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাফি-নূর হাসান বলেন, ‘ভাঙ্গা পৌর এলাকায় ৬৫ হেক্টর জমিতে এ বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। প্রতি ৪২ শতক জমিতে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার কেজি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা হতাশা প্রকাশ করছে।’
ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল মামুন বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা ১টি পৌরসভা ও ১২ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ বছর ভাঙ্গা উপজেলায় ৫২৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। অনেক এলাকার চাষিরা জানিয়েছে প্রতি হেক্টরে তাদের ২০ টন করে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।