এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় তিতাস গ্যাসের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ফেটে বের হওয়া গ্যাসের কারণে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে এই আগুন প্রায় ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ঘটনাস্থল থেকে এখনও গ্যাস বের হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের সফিপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে তিতাসের ভূগর্ভস্থ গ্যাসলাইনে লিকেজ দেখা দিচ্ছে। এরমধ্যে কয়েকটি স্থানে মেরামত করা হলেও চন্দ্রা এলাকার ব্লো-ওশান কারখানার সামনে একটি ড্রেনের নিচে থাকা গ্যাসলাইন থেকে গত কয়েক মাস ধরে অবিরাম গ্যাস বের হচ্ছিল। এতে এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ ওই স্থানটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় ৩০০ ফুট এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশের পোশাক কারখানায় ছুটি হলে শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করেন। খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন নিভলেও গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ হয়নি।
কারখানা শ্রমিক হালিম মোল্লা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে এখানে গ্যাস বের হচ্ছে। আগুন ধরার ঘটনাও ঘটেছে, কিন্তু স্থায়ীভাবে কোনো মেরামত করা হয়নি। আমরা প্রতিদিন ভয় নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, চন্দ্রা থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস লিকেজ হলেও তিতাস কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বারবার জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
স্থানীয়দের মতে, ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের একেবারে পাশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন থেকে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস লিকেজ ও আগুন জ্বলার ঘটনা ঘটলেও এখনও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ কিংবা স্থায়ী মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে পথচারী ও আশপাশের শিল্পকারখানার শ্রমিকরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ইফতেখার রায়হান কালবেলাকে বলেন, খবর পেয়ে আমাদের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ওই স্থানে কয়েক মাসে একাধিকবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের কালিয়াকৈর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আল মামুন বলেন, দুই মাস নয়, প্রায় দুই বছর ধরে ওই এলাকায় গ্যাস লিকেজের সমস্যা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫–১৬টি স্থানের লিকেজ বন্ধ করা হয়েছে। চন্দ্রার এই স্থানটির বিষয়েও মেরামত শাখাকে জানানো হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।