বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৫৮:৪৫

মহান আল্লাহ কবুল করেন না যেসকল ব্যক্তির দোয়া

মহান আল্লাহ কবুল করেন না যেসকল ব্যক্তির দোয়া

ইসলাম ডেস্ক : মানুষের চাওয়ার শেষ নেই। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষ তার প্রয়োজন, আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মহান আল্লাহর কাছে হাত পাতে। আর বান্দার সেই চাওয়া পূরণের অন্যতম মাধ্যম হলো দোয়া। নতচিত্তে ও অবনত মস্তকে রবের কাছে করা দোয়া মুমিনের অন্যতম বড় আশ্রয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৬)।

নবীজি (সা.)-ও দোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, ‘দোয়া সব ইবাদতের মূল।’ (তিরমিজি)। তবে দোয়া কবুলের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এর অন্যতম হলো হারাম উপার্জন, হারাম খাদ্য ও পানীয় থেকে নিজেকে বিরত রাখা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু (হালাল) হতে ভক্ষণ করো এবং নেক কাজ করো।’ (সুরা মুমিন: ৫১)।

অন্য আয়াতে মুমিনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হে মুমিনগণ, আমি তোমাদেরকে যে হালাল রিজিক দিয়েছি তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর জন্য শোকর কর, যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদাত কর।’ (সুরা বাকারা: ১৭২)।

ওলামায়ে কেরাম এসব আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, হারাম উপার্জন ও হারাম খাদ্য-পানীয় মানুষের দোয়া কবুলের পথে বড় বাধা। অর্থাৎ বান্দা যতই দোয়া করুক, তার জীবন ও উপার্জনে হারামের সংমিশ্রণ থাকলে সেই দোয়া কবুল না হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হাদিসে এমন কয়েক শ্রেণির মানুষের কথা এসেছে, যাদের দোয়া কখনোই কবুল হয় না। চলুন জেনে নিই, তারা কারা।

হারাম খাওয়া
হারাম খাবার খাওয়া ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, হারাম খাবার, পানীয় ও বস্ত্র অর্থাৎ হারাম উপার্জনে যাপিত জীবন দোয়া কবুলের অন্তরায়। যে ব্যক্তি হারাম পরিহার করতে পারে না, তার দোয়া কবুল হওয়ার আশা করা যায় না। বিপরীতে যার জীবিকা পবিত্র, তার দোয়া কবুল হওয়ার কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.)। তিনি (সা.) একদিন সাদকে (রা.) বলেন, হে সাদ, তোমার খাদ্য পবিত্র করো, তাহলে মুস্তাজাবুদ দাওয়াত (যার দোয়া কবুল হয়) হতে পারবে। (আল মুজামুল আওসাত: ৬৪৯৫)

নিরাশ হওয়া ব্যক্তি
যে ব্যক্তি দোয়া করে হতাশ হয়ে যায় তার দোয়াও আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে; যদি-না সে তাড়াহুড়ো করে আর বলে, আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া তো কবুল হলো না। (বোখারি: ৬৩৪০)

তাই রাসুল (সা.) বলেছেন, দোয়ার পর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করবেন।

আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া
হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। নিশ্চয়ই তোমরা সৎ কাজের জন্য আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে। তা না হলে আল্লাহ তায়ালা শিগগির তোমাদের ওপর তার শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তোমরা তখন তার কাছে দোয়া করলেও তিনি তোমাদের সেই দোয়া গ্রহণ করবেন না (তিরমিজি: ২১৬৯)। তাই আল্লাহ যেসব কাজের আদেশ দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন না করলে ওই ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় না।

আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করা
হাদিসে আছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করে, সে এই পাপের শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায়ই ভোগ করতে হবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘কোনো মুসলিম দোয়া করার সময় কোনো গোনাহের অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দোয়া না করলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে এ তিনটির কোনো একটি দান করবেন—হয়তো তাকে তার কাঙ্ক্ষিত সুপারিশ দুনিয়ায় দান করবেন, অথবা তা তার পরকালের জন্য জমা রাখেন, কিংবা অথবা তার কোনো অকল্যাণ বা বিপদ থেকে তাকে রক্ষা করবেন।

এ কথা শুনে সাহাবিরা বলেন, তাহলে তো আমরা অনেক বেশি লাভ করব। তিনি (রাসুল সা.) বলেন, আল্লাহ এর চেয়েও বেশি দেন। (আত-তারগীব: ১৬৩৩)

এই হাদিসের আলোকে ইসলামি স্কলাররা বলেন, রক্তের বন্ধন ছিন্নকারীর (শরয়ি করণ ছাড়া) দোয়া কখনোই কবুল হয় না, যতক্ষণ না তারা পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসেন।

এ ছাড়া অবচেতন মনের দোয়া আল্লাহ গ্রহণ করেন না বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো, আল্লাহ অমনোযোগী ও অসাড় মনের দোয়া কবুল করেন না। (তিরমিজি: ৩৪৭৯)

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে