ইসলাম ডেস্ক : সৌদি আরবের আল-বাহা অঞ্চলের আল-মাআল্লামাহ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে সন্ধান মিলেছে প্রায় ১৩ শত বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক মসজিদের। মসজিদটির কিবলার দেয়ালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম উল্লেখ করে একটি প্রাচীন শিলালিপি পাওয়া গেছে।
সৌদি হেরিটেজ কমিশনের প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের চতুর্থ মৌসুমে মসজিদটির সন্ধান পাওয়া যায়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, মসজিদটি হিজরি প্রথম শতাব্দীর। অর্থাৎ ইসলামি সভ্যতার প্রাথমিক যুগের প্রায় ১৩ শতাব্দী আগের একটি স্থাপত্য নিদর্শন এটি। প্রাচীন মসজিদটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো কিবলার দেয়ালে পাওয়া শিলালিপি।
পাথরে খোদাই করা ওই লেখায় মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ লেখা রয়েছে।
প্রাচীন মসজিদটি স্থানীয় গ্রানাইট পাথর কেটে নির্মাণ করা হয়েছিল। আয়তনে এটি প্রায় ১৬ মিটার লম্বা ও ১০ মিটার প্রশস্ত। স্থাপনাটিতে কিবলামুখী মেহরাব, প্রবেশপথ এবং একটি মিনারের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বাহ্যিক দিক থেকে স্থাপনাটি তুলনামূলক সরল হলেও এর নির্মাণকৌশলে তৎকালীন মুসলিম স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। খননকাজে শুধু মসজিদের কাঠামোই নয়, এর আশপাশে পাথরের তৈরি বেশ কয়েকটি কক্ষের সন্ধানও পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মসজিদটি ছিল তৎকালীন জনবসতির গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র।
এসময় প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে এলাকাটিতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের মাটির পাত্র, পানির আধার, পাথরের গৃহস্থালি সামগ্রী, শস্য পেষার জাঁতা ও হামানদিস্তার মতো বিভিন্ন নিদর্শন উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া সোনা, রুপা ও তামা উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রাচীন নিদর্শনও পাওয়া গেছে। এসব উপাদান ওই সময়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।
সৌদি হেরিটেজ কমিশনের মতে, মসজিদ ও এর আশপাশ থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রথম ইসলামি যুগের মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কে নতুন তথ্যের দ্বার খুলেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে পাথরের গায়ে টিকে থাকা নবীজি (সা.)-এর নামসংবলিত এই শিলালিপি প্রথম ইসলামি যুগের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও এক মূল্যবান সাক্ষ্য।