শনিবার, ০৭ মে, ২০২২, ০৯:০৬:৪৪

পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে

পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে

এমটি নিউজ ডেস্ক : দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। লঘুচাপটি আজ শনিবার রাতে কিংবা কাল রবিবার সকালে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। 

এরপর সেটা যদি গভীর নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তাহলে এর নাম হবে ‘অশনি’। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে সরকার।

গত বৃহস্পতিবারই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনীয়সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র, স্বেচ্ছাসেবক ও ত্রাণ প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গত রাতে বলেন, ‘দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। 

এটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আগ পর্যন্ত এর গতিপথ পরিমাপ করা যাচ্ছে না। তবে এটি আরো ঘনীভূত হয়ে শনিবার রাতে বা রবিবারে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এই লঘুচাপের গতিপথ ভারতের ওড়িশা অভিমুখে রয়েছে। ’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়টি যদি ওড়িশায়ও আঘাত হানে তাহলে বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে। 

এর প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়া ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। আর যদি এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ কিছুটা পরিবর্তন হয়ে পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের দিকে ঝোঁকে, তাহলে আরো বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের খবর অনুযায়ী, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ১০ মে রাতে ‘অশনি’ ওড়িশা ও অন্ধ্র উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছবে। তবে এটি কিছুটা দিক পরিবর্তন করে উপকূলে আঘাত হানতে পারে ১১ মে। 

বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে সর্বোচ্চ গতি উঠতে পারে ১০০ কিলোমিটার। যে গতিপথ ধরে লঘুচাপটি অগ্রসর হচ্ছে, এতে বাংলাদেশের উপকূলে অশনির আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও বড় ধরনের প্রভাব না-ও পড়তে পারে। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সিংহলি ভাষার শব্দ ‘অশনি’। এর মানে হলো ‘ক্রোধ’।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস গতকাল সামুদ্রিক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। 

এটি আরো ঘনীভূত হতে পারে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে পরবর্তী নির্দেশনা পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বিজলি চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টি বা বজ সহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল খুলনায় ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ২২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে রাজশাহী বিভাগের তাড়াশে, ৭৩ মিলিমিটার।

এমটিনিউজ২৪.কম এর খবর পেতে Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, এমটিনিউজ২৪ টুইটার , এমটিনিউজ২৪ ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে