এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে এ কর্মবিরতি চলে। কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
চাকরিগত পদমর্যাদা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও নার্সদের মতো ১০ গ্রেডে উন্নতি করার দাবিতে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালগুলিতে কর্মসূচি পালিত হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালিত হয়নি। সরকারি হাসপাতালে কর্মবিরতি পালনকালে রোগীদের রক্ত, এক্সরে, সিটি স্ক্যান, এম আর আই পরীক্ষা করাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অপরদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।
বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খাজা মঈন উদ্দিন মঞ্জু বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের ফাইল বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন, দাপ্তরিক চিঠিপত্র প্রেরণসহ জনপ্রশাসন বিধি শাখার সব চাহিদা পূরণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নানা উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সিকদার মো. জসিম বলেন, দেশের সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা দীর্ঘদিন ধরেই চরম বৈষম্যের মধ্যে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, অন্যান্য ডিপ্লোমাধারী যেমন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের ইতোমধ্যে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য দাবি এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি—যা অত্যন্ত পরিতাপজনক।
তিনি আরও জানান, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রোববার দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। এ দাবির অগ্রগতি না হলে আগামী ৩ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন এবং ৪ ডিসেম্বর ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হবে।