এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রমজান মাস সামনে রেখে রাজধানীর চিনির বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে ঢাকার পাইকারি বাজারে চিনির দাম মণপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা বেড়েছে। এ বাড়তি দামের চাপ ইতোমধ্যে খুচরা বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
ব্যবসায়ীরা সরবরাহ সংকটের কথা বললেও ভোক্তা অধিকার-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৌশলগতভাবে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। রাজধানীর প্রধান পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রতি মণ চিনি ৩ হাজার ২৫০ টাকার আশপাশে বিক্রি হয়েছে।
বর্তমানে তা বেড়ে ৩ হাজার ৪৫০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। একাধিক পাইকার জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বাজারে চিনি পুরোপুরি নেই এমন নয়, তবে স্বাভাবিক যে পরিমাণে পণ্য আসার কথা, তা আসছে না। ফলে দাম বাড়ছে এবং সেই বাড়তি দামের চাপ শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে গিয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে চিনির সরবরাহ অনেকটাই কম। সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপের চিনি দীর্ঘদিন ধরে বাজারে আসছে না। সিটি গ্রুপের একটি চিনির জাহাজ বন্দরে আটকে আছে বলে শুনেছি। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে এস আলম সুগার মিলের যে চিনি নিয়মিত ঢাকার বাজারে আসত, সেটিও বন্ধ রয়েছে।’ এসব কারণে পাইকারি বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
রমজানের আগে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরবরাহ কমানো হচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটিকে সরাসরি পাঁয়তারা বলা ঠিক হবে না। সরবরাহ কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ে। তবে রমজান সামনে রেখে পরিস্থিতি যাতে আরও জটিল না হয়, সেজন্য সরকার ও মিল মালিকদের একসঙ্গে বসে সরবরাহ চেন স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’
এদিকে পাইকারি বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধীরে ধীরে খুচরা বাজারেও ছড়িয়ে পড়ছে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও খোলা চিনি ৯০ টাকার আশপাশে পাওয়া গেছে। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ টাকা। কারওয়ান বাজারের ইয়াসিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত পাঁচ-ছয় দিনে পাইকারি বাজারে বস্তায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছে। পাইকারিতে দাম বাড়লে খুচরা পর্যায়ে তার চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এখন ১০০ টাকার নিচে চিনি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, দেশের বাজারে কয়েক মাস ধরে চিনির দাম তুলনামূলক কম থাকায় বড় ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের একটি অংশ মজুত বাড়িয়েছে। পাশাপাশি সাদা চিনি আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রমজান ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এ মূল্যবৃদ্ধিকে পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেছে। ক্যাবের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘রমজান সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা এখনই দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাঠপর্যায়ের তথ্যে বাজারে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও অসাধু মিলাররা সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।’ দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার করা না হলে রমজান কেন্দ্র করে চিনির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে জানান তিনি।