এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : গাছে পেরেক লাগালে বা অন্য কোনো ধাতব বস্তুর মাধ্যমে ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি।
মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ গেজেট জারি করা হয়।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পেরেক বা কোনো ধাতব বস্তুর মাধ্যমে গাছের ক্ষতিসাধন করা যাবে না। এ বিধান লঙ্ঘন করলে আদালত অপরাধী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ‘বন আইন, ১৯২৭’ এর ৪ ও ৬ ধারার অধীন গেজেটভুক্ত বন, অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন, সামাজিক বন, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিসরের বৃক্ষ কর্তন ও অপসারণ করা যাবে। এ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রধান বন সংরক্ষক বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেবেন।
গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের তালিকাভুক্ত অথবা বন অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো বৃক্ষ কর্তন করা যাবে না।
তবে অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকায় থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির বৃক্ষ নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন নিয়ে কর্তন করা যাবে।
এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বৃক্ষের প্রজাতি, সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুক সমান উচ্চতায় বেড়, কর্তনের কারণসহ নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর আবেদন প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।
অধ্যাদেশ অনুসারে, কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষ কাটলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের ব্যবস্থা নিতে পারবেন আদালত। অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের বিধান লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বৃক্ষের ক্ষতিসাধনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে।