বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:১৬:৩১

এক টাকা ঘুসের প্রমাণ দিতে পারলে চাকরি ছেড়ে দেব: ডিসি সারওয়ার

এক টাকা ঘুসের প্রমাণ দিতে পারলে চাকরি ছেড়ে দেব: ডিসি সারওয়ার

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্ব ও ঘুস লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। 

তিনি বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাত বা অনিয়মের সুযোগ নেই এবং কেউ যদি এক টাকা ঘুস দেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তবে নিজেই চাকরি ছেড়ে দেব। 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

সারওয়ার আলম বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে, পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে ১০ কোটি টাকা ঘুস নেওয়ার গুজব, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা। 

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। সিলেটে তিনজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় যাচাই করা হয়েছে, এর মধ্যে একজন প্রার্থী নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করলেও নির্ধারিত সময়ে গ্রহণযোগ্য কোনো সরকারি ডকুমেন্ট জমা দিতে পারেননি। ফলে আইন অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, এখানে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুসের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১০ কোটি টাকা তো দূরের কথা, কেউ যদি এক টাকা ঘুসের প্রমাণও দিতে পারে তবে সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মেনে নেব। 

সারওয়ার আলম বলেন, এটি ভুয়া খবর এবং একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ও নির্বাচন নিয়ে জনগণের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। 

পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, দশ কোটি নয়, দশ হাজার কোটি টাকায়ও আমাকে কেনা সম্ভব নয়। নির্বাচনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, প্রশাসন যে কোনো মূল্যে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এজন্য সাংবাদিকসহ সাধারণ জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ফেক নিউজ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, কয়েকটি নিউজ পোর্টালে সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী এমএ মালিকের কাছে ১০ কোটি টাকা ঘুস চেয়েছেন বলে খবর প্রচার করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। 

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে