এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রাক-নির্বাচনী জরিপ প্রকাশ করা হয়।
“ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুই হাজার ছাব্বিশ” শীর্ষক এ জরিপটি প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি। প্রজেকশন বিডি, জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারাটিভ জরিপ পরিচালনায় যৌথভাবে কাজ করেছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রায় ৩৪ শতাংশের বেশি ভোটার, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মত দিয়েছেন প্রায় ৩৩ শতাংশের বেশি মানুষ।
জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান জনসমর্থনের ভিত্তিতে ভোটের সম্ভাব্য বণ্টন হলো- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) পাবে ৩৪.৭ শতাংশ। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন থাকবে ৩৩.৬ শতাংশ। এ নির্বাচনে আনডিসাইডেড (সিদ্ধান্তহীন) ভোটার থাকতে পারে ১৭.০ শতাংশ।
অন্য দলগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) ৭.১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ এবং অন্যান্য দল ৪.৫ শতাংশ ভোট পাবে।
যদিও মেশিন লার্নিং (এমএল) প্রজেকশন অনুযায়ী, আনডিসাইডেড ভোটারদের ঝোঁক বিবেচনায় নিলে বিএনপির সমর্থন ৪৩.২ এবং জামায়াতে ইসলামির সমর্থন ৪০.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, মোট ভোটারের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সম্ভাব্য অবস্থান যুক্ত করলে বিএনপির সমর্থন দাঁড়াতে পারে প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশের কাছাকাছি এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন পৌঁছাতে পারে প্রায় একচল্লিশ শতাংশের মতো।
জনমত জরিপটি পরিচালিত হয় দুই হাজার পঁচিশ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতে দেশের ৬৪ জেলার অন্তর্ভুক্ত প্রায় ২৯৫ সংসদীয় আসনের মোট বাইশ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। শহর-গ্রাম, অঞ্চল ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে স্তরভিত্তিক নমুনা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় এবং জাতীয় আদমশুমারির তথ্যের আলোকে পরবর্তী ওজন প্রয়োগ করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে জরিপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২৬ সালের নির্বাচন হবে একদিকে অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার রাজনীতি, অন্যদিকে সততা, ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধের রাজনীতির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ভোটারদের বড় অংশই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহিন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মুশতাক খান, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী একে এম ফাহিম মাশরুরসহ আরও অনেকে।