বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০১:০৬

‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব’ —কথাটির গোমর ফাঁস করলেন হামিম

‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব’ —কথাটির গোমর ফাঁস করলেন হামিম

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় বাকি। ঠিক এই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক পিআরের (জন যোগাযোগ) অভিযোগ আনলেন ঢাবি ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি জানিয়েছেন, শ্রমজীবীদের দারিদ্র্যতাকে পুঁজি করে এ কাজটি করে চলেছে জামায়াত। 

বিষয়টি প্রথম হামিমের নজরে আসে তার এলাকা খুলনায়। খুলনা-৪ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালের জনপ্রিয়তা বেশ বলে জানান তিনি। কিন্তু সেখানে এক ভ্যানচালককে জামায়াতের প্রার্থী না চিনলেও তাদেরই ভোট দেওয়ার কথা বলতে শোনেন তিনি। 

সম্প্রতি এক পডকাস্টে বিষয়টি জানান হামিম। কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের এই আহ্বায়ক বলেন, ‘কিছুদিন আগে যখন আমি গ্রামে গিয়েছিলাম, তখন আমি দেখেছি, ভ্যানে ঘুরছিলাম, তখন ভ্যানওয়ালা আমাকে বলছে, ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার একটু জামায়াতকে দেখব’। আমি তো খুবই অবাক হলাম, যে একজন ভ্যানচালক…! আজিজুল বারী হেলাল তো এই এলাকায় অনেক জনপ্রিয়। জামায়াতের যে প্রার্থী তার নাম জিজ্ঞেস করেছি, ভ্যানওয়ালা তার নামও বলতে পারছে না; বলছেন, ‘প্রার্থী কে তা জানি না, জামায়াতকে একটু দেবানে’। আমার একটা ব্রেইনস্টর্মিং হলো, এ রকম কেন বলছে? বিভিন্ন জায়গায় এমন শোনা যাচ্ছে, বিভিন্ন চায়ের আড্ডায়।’ 

তবে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হয় ঢাকায় আসার পরে। এখানে এক রিকশাওয়ালা বিষয়টি জানান তাকে। হামিমের ভাষ্য, ‘পরবর্তীতে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলাম, তখন খুলনার কয়রার মানুষ আছে যে এখানে রিকশা চালায়, সে আগে এলাকায় বিএনপি করত, পরে সে চলে আসে, তার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের রিলেশন। সে আমাকে ৩ দিন আগে ফোন দিয়ে বলল, ভাই একটু দেখা করতাম। বললাম ক্যাম্পাসে আসেন।’ 

‘সে (রিকশাওয়ালা) বলল, ভাই একটা কাহিনি হইসে, আজকে একজন আমার রিকশায় উঠসে সে আমাকে বলছে যে, এই তুই কয় টাকা ইনকাম করিস? আমি বললাম ভাই আমি তো হাজার বারোশ টাকা ইনকাম করি। বলতেছে তোর রিকশার ভাড়া কত? আমি বললাম ৫০০ টাকা। তিনি বললেন, আমি তোকে আরও ৫০০ টাকা দিব, তোর কাজ হবে রিকশায় যারা ওঠে তাদের তুই বলবি সবাইকেই তো একবার দেখসি এবার একটু জামায়াতকে দেখব। দেখেন এইটা সংঘবদ্ধ ইনটেনশনাল প্রচার, এইটা আমি এতদিন বুঝতে পারিনি।’

এই প্রচারণার বিষয়টি আবার ছদ্মবেশে পরীক্ষাও করা হয় বলে জানান হামিম। তিনি বলেন, ‘ওই রিকশাওয়ালাকে আবার কি বলছে শোনেন, এখানে কিন্তু ছদ্মবেশে আমাদের অনেকে উঠবে, তুমি আসলেই বলছ কিনা, সেটা পরীক্ষা করবে। তুমি রাত্রে টাকাটা নিয়ে যাবা।’

নিম্ন আয়ের মানুষদের দারিদ্র্যকে পুঁজি করে এভাবে প্রচারণা চালানোকে ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দেন তিনি। হামিম জানান, ‘তখন আমার মাথায় এলো যে, বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষ যারা আছে, যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের এই দারিদ্র্যের একটা অংশকে পুঁজি করে জামায়াত এভাবে সংঘবদ্ধ প্রচার চালাচ্ছে, প্রতারণা করছে।’

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে