এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে পে স্কেল নিয়ে নানা আলোচনার পর সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে পে-কমিশন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত পূর্ণ কমিশন সভায় গ্রেড সংখ্যা পরিবর্তনের দাবি উঠলেও শেষ পর্যন্ত আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের হার নির্ধারণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পুরো কাঠামো এখনো ঝুলে আছে। এর মধ্যেই খণ্ডকালীন এক সদস্যের পদত্যাগে কমিশনের ভেতরে অস্থিরতা প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে।
পে-কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে আনা বা পুনর্গঠনের প্রস্তাব থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে বর্তমান ২০টি গ্রেডই রাখার সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিশন।
কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেড সংখ্যায় কোনো হাত না দিয়েই বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হবে।
বৃহস্পতিবারের সভায় বেতন কাঠামোর পাশাপাশি পেনশন ও চিকিৎসা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণ।
এই অঙ্কটি চূড়ান্ত না হওয়ায় বাকি সব বিষয় আটকে রয়েছে।
সূত্র বলছে, কমিশনের সদস্যরা সর্বনিম্ন বেতনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছেন না। আগামী ২১ জানুয়ারি পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনা হবে। এর আগে বেতন বৈষম্য কমাতে বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার কথা শোনা গিয়েছিল।
তবে পে স্কেল নিয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন খণ্ডকালীন সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার।
আর্থিক সংকট ও আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তবে এ উদ্দেশ্যে গঠিত পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে—যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা যায়।
কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে, যা নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
বেতন কাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় থাকাকালীন সময়েও বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা