শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১৪:২৯

দলিল আসল নাকি ভুয়া, এই সহজ উপায়ে চিনুন

দলিল আসল নাকি ভুয়া, এই সহজ উপায়ে চিনুন

জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে ভুয়া দলিল ও নকল কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এতে অনেক সাধারণ ক্রেতা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত বা নজরদারির বাইরে থাকা জমিতে প্রতারণার ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

ঢাকার ডেমরা এলাকার সহকারী ভূমি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সঠিক যাচাই ছাড়া জমি কেনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি জানান, জমি নিরাপদে ক্রয়ের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক। 

তিনি বলেন, প্রথমেই দলিলের ভলিউম ও রেজিস্ট্রি নম্বর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। দলিলের সাল, নম্বর, সরকারি সিল ও স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি দলিল লেখকের পরিচয় এবং জমির প্রকৃত মালিক নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সহকারী ভূমি কমিশনার আরও জানান, নামজারি ও খতিয়ান পরীক্ষা করে জমির পরিমাণ ও সীমানা মিলিয়ে দেখা উচিত। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে জমি বিক্রি হলে উভয় পক্ষের ছবি ও তথ্য ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। দলিলের তারিখ এবং জমি হস্তান্তরের সময়ের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, পুরোনো দলিল, উত্তরাধিকারনামা, খাজনা বা কর পরিশোধের রশিদ সংগ্রহ করে সেগুলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের উৎস ও সিরিয়াল নম্বর যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।

মো. আসাদুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, এসব যাচাই-বাছাই সঠিকভাবে অনুসরণ করলে ভুয়া দলিল ও নকল জাতীয় পরিচয়পত্রের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। জমি কেনা যেহেতু একটি বড় বিনিয়োগ, তাই একাধিক স্তরে যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবী বা স্থানীয় ভূমি অফিসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতি থাকলে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত জমি লেনদেন নিশ্চিত করা সম্ভব।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে