শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৫৮:৩৯

ঋণের গ্যারান্টার হয়ে জীবন দিতে হলো মা-মেয়েকে!

ঋণের গ্যারান্টার হয়ে জীবন দিতে হলো মা-মেয়েকে!

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : কেরানীগঞ্জে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, পাশাপাশি বাসা হওয়ায় নিহত রোকেয়ার সঙ্গে তার মেয়ের গৃহশিক্ষিকা মীমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে মীম তিনটি এনজিও থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেয়। যেখানে গ্যারান্টার ছিলেন নিহত রোকেয়া। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য রোকেয়া চাপ দিতে থাকলে এ থেকেই মূলত এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

ওসি জানান, প্রথমে গৃহশিক্ষিকা মীম (২২) ও তার ছোট বোন নুর জাহান মিলে রোকেয়ার মেয়ে ফাতেমাকে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মীম ফোন করে রোকেয়াকে জানায়, তার মেয়ে অসুস্থ। মেয়েকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রোকেয়াকে গৃহশিক্ষিকা মীমের বাসায় ডেকে আনা হয়। রোকেয়া বাসায় প্রবেশ করলে মীম ও নুর জাহান দুই বোন মিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকেও হত্যা করে।

হত্যার পর রোকেয়ার মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং মীম সেই খাটের ওপরেই ঘুমায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক গৃহশিক্ষিকা মীম ও তার বোন নুর জাহান এসব তথ্য স্বীকার করেছে বলে জানান ওসি।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মেয়ে ফাতেমা শিক্ষিকার বাসায় প্রবেশ করছে। হত্যাকাণ্ডের পর ফাতেমার পরনের পোশাক পরে নুর জাহান ওই বাসা থেকে বের হয়, যাতে মনে হয় ফাতেমা শিক্ষিকার বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তি ছিল মীমের ছোট বোন নুর জাহান।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাইফুল আলম আরও জানান, এ ঘটনায় গৃহশিক্ষিকা মীম ও তার বোন নুর জাহানকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গত ২৭ ডিসেম্বর একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

গত ৬ জানুয়ারি নিহত রোকেয়ার স্বামী শাহীন বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে (অপহরণ) অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে