রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:২০:০০

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের পর এমন সিদ্ধান্তে সুখবর পেলেন চরমোনাই পীর

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের পর এমন সিদ্ধান্তে সুখবর পেলেন চরমোনাই পীর

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : চরমোনাই পীরের নির্বাচনী আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াতে ইসলামী। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের পর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য ও জোট রাজনীতির স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট গঠনের ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্যের জায়গা থেকে ওই আসনে জামায়াত প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং ঐক্যের রাজনীতি প্রয়োজন। ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা জরুরি। চরমোনাই পীরের নেতৃত্ব ও ভূমিকার প্রতি সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জামায়াত নেতা জানান, ১১ দলীয় জোটের লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় ছাড় ও সমন্বয় করতে দলটি প্রস্তুত রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়টি ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে এবং তা অনুমোদনও পেয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান জামায়াতের এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা ও প্রটোকলের ক্ষেত্রে সরকার একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। তিনি বলেন, একটি দলের প্রধানকে বিশেষ নিরাপত্তা বা প্রটোকল দেওয়া হলে তাতে আপত্তি নেই। তবে একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকেও সমান নিরাপত্তা ও প্রটোকল দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকে বিশেষভাবে দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে-ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মনোনয়ন যাচাই। ডা. তাহেরের অভিযোগ, একই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আচরণ সব জায়গায় একরকম নয়। কোথাও কোথাও ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেখা যাচ্ছে।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে তাদের কাছে মনে হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের উচিত সব দলের জন্য একই নিয়ম প্রয়োগ করা এবং কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করা।

এর আগে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করে। প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

বৈঠক ও পরবর্তী বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমান রাজনৈতিক আচরণের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চরমোনাই পীরের আসনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জামায়াতের কৌশলগত অবস্থানকেই তুলে ধরে। এতে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার বার্তা যেমন দেওয়া হলো, তেমনি জোট রাজনীতিকে আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিতও মিলছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচনী সমীকরণে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেদিকে এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে