এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছেন ঢাকায় বসবাসরত এক পকিস্তানি নাগরিক। দাম্পত্য কলহের জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরায় এ ঘটনা ঘটে।
৯৯৯-এর পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার বলেন, মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে ওই পাকিস্তানি নাগরিক ফোন করে জানান, তিনি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বাংলাদেশের একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। চার বছর আগে বাংলাদেশি এক নারীকে তিনি বিয়ে করেছেন এবং তাদের দুটি সন্তান আছে।
বেতন বাবদ ওই পাকিস্তানি নাগরিক প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা পান এবং বেতনের সিংহভাগ স্ত্রীর হাতে তুলে দেন। তবে, নানা অজুহাতে আরও টাকা দাবি করেন তার স্ত্রী। অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগে প্রতিনিয়ত তাকে ব্ল্যাকমেইলিং করে যাচ্ছেন তার স্ত্রী।
ফোন কলে একপর্যায়ে ওই পাকিস্তানি নাগরিক কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে জানান, তিনি গাড়ি চালাতে চালাতে ফোন করেছেন এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত। তিনি এখন আত্মহত্যা করবেন।
বিষয়টি বুঝতে পেরে ৯৯৯-এর কলটেকার তাকে শান্ত থাকার এবং গাড়ি থামানোর জন্য বারবার অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাকিস্তানি নাগরিকের বাসার ঠিকানা জোগাড় করেন এবং তৎক্ষণাৎ তুরাগ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন।
পরে তুরাগ থানা পুলিশের একটি দল কলারের বাসায় যায়। কলারের কলিগ ও বন্ধু-বান্ধবকে খবর দিয়ে আনানো হয়। কলারের শ্বাশুড়িও খবর পেয়ে চলে আসেন। এ সময় কলারের স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত গভীর রাতে বাসায় ফেরার অভিযোগ করেন।
সবার উপস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। এ সময় স্বামী-স্ত্রী কারও বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দিতে রাজি হননি। আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দেওয়া হয় এই দম্পতিকে।