এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : প্রায় ১০ বছর পর সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সুপারিশ করেছিল জাতীয় বেতন কমিশন। সেখানে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড, সব স্তরেই বেতন বাড়ানোর সুপারিশ দেওয়া হয়।
তবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়নের সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘পে-স্কেল নিয়ে পে কমিশন শুধু রিপোর্ট দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এটা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। সরকার কমিটি করে দিয়েছে সুপারিশ পর্যালোচনা করার জন্য। এ ধরনের পে কমিশন একবারে বাস্তবায়ন হয় না। ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে। পে কমিশন প্রস্তাব দিয়েছে, আগামী সরকারের কাজের জন্য সুবিধা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জিনিসপত্রের দামে পে কমিশন রিপোর্টের প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই। কেননা সরকার তো এটা বাস্তবায়ন করছে না। ডিফেন্স জোন করা হচ্ছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর তো সমরাস্ত্র ব্যবহার করে। এর জন্য অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিকভাবে শুধু জমি বরাদ্দ করা হচ্ছে।’
চীন ও পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান, ড্রোন কেনা নিয়ে কোনো বিষয় জানা নেই বলে জানান এই উপদেষ্টা।
ফাওজুল কবির বলেন, ‘ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশ অনৈতিক কিছু নেই। বাংলাদেশ বিকল্প ভেন্যু চেয়েছে শুধু। ভারত তো দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে খেলেনি। আমরা তো বিশ্বকাপ খেলতে চাই।’
২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুসারে বেতন-ভাতা পাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা এখন প্রায় ১৫ লাখ। গত ১০ বছরে নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় বিভিন্ন সময় এ নিয়ে দাবি জানান সরকারি চাকরিজীবীরা। অবশেষে গত বছর জুলাইয়ে অন্তবর্তী সরকার পে কমিশন গঠন করে।
গত ২১ জানুয়ারি (বুধবার) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয় সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে বেতন কমিশন।
তবে গ্রেড (ধাপ) রাখার আগের মতোই ২০টি। সর্বনিম্ন অর্থাৎ ২০তম ধাপে মূল বেতন ২০ হাজার টাকা আর সর্বোচ্চ অর্থাৎ প্রথম ধাপে নির্ধারিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়।