এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ওররপাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে চলা সোনার দামে যেন হঠাৎ শক্ত লাগাম পড়েছে। রেকর্ড সাড়ে পাঁচ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের পর বিশ্ববাজারে এখন সোনার দামে টানা পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৯৯২ দশমিক ০৫ ডলারে নেমে গেছে। এমনকি ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসও ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯৮৫ ডলারে নেমে এসেছে। খবর রয়টার্সের।
মূলত, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ার কারণে হঠাৎ এমন দরপতন দেখা যাচ্ছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো অবশ্য বলছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতির পর বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা স্বাভাবিক। তবে, সোনার দাম এখনো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরেক বিশ্লেষক রস নরম্যানের মতে, সোনার দাম বর্তমান স্তর থেকে আরও অনেকটা নামতে পারে। তবে, পরবর্তীতে পুনরুদ্ধার হবে। ২০২৬ সালে সোনার গড় দাম হবে ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার, যা চতুর্থ প্রান্তিকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
সোনার পাশাপাশি স্পট মার্কেটে রুপার দামও এক ধাক্কায় ১৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৯৯ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার রেকর্ড ১২১ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল রুপার দাম।
সবশেষ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সোনারর দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে পৌঁছায়।
এদিকে শুক্রবার দিনের শুরুতে বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও কমানো হয়েছে সোনার দাম। সবশেষ ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে বর্তমানে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এবার বিশ্ববাজারে সোনার দামে আরেক দফা পতন ঘটায় দেশের বাজারেও আরও অনেকটা কমে যেতে পারে সোনার দাম।