এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি প্রতিহিংসা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়িয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মতভিন্নতা যেন কোনোভাবেই একটি মানবিক সমাজের মূল চালিকাশক্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।
ড. আজহারী তার পোস্টে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ দীর্ঘ দেড় যুগ পর পুনরায় তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। একে দেশের ভবিষ্যৎ গতিধারা নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে অভিহিত করে তিনি ছাত্র-জনতাকে সচেতন ও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, উসকানি ও দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বিভেদ ও বিদ্বেষমুক্ত রাজনীতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি লিখেছেন, সাধারণ মানুষ এখন ট্যাগিং ও ব্যাশিংমুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতি দেখতে চায়। রাজনীতিবিদদের প্রতি তার আহ্বান— জাতির মধ্যে বিভক্তি না বাড়িয়ে ইতিবাচক ধারার প্রতিযোগিতা শুরু করা উচিত। একে অপরের দোষারোপ না করে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন এবং তারা যোগ্যতা মূল্যায়ন করতে জানে।
নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আজহারী বলেন, আঠারো কোটি মানুষ প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে একটি কাঙ্ক্ষিত এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার পেতে চায়। সঠিক ও পক্ষপাতহীন আচরণই পারে বাংলাদেশকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে। তিনি প্রতিটি নাগরিককে তাদের ভোটাধিকারকে একটি পবিত্র আমানত হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন এবং সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানান।
পরিশেষে তিনি সবাইকে মনে করিয়ে দেন, নেতৃত্ব কেবল পথ দেখাতে পারে কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয় একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি। রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।