সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৫:৫৬

খাতুনগঞ্জে হঠাৎ পেঁয়াজের কেজি কত হলো জানেন?

খাতুনগঞ্জে হঠাৎ পেঁয়াজের কেজি কত হলো জানেন?

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বৃহৎ পাইকারী বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের দাম কমছে। এছাড়া বাজারে এসেছে ভারতীয় পেঁয়াজও। যদিও দাম দেশি পেঁয়াজের তুলনায় চড়া। চাক্তাই–খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিদিন চাক্তাই খাতুনগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে দেশি পেঁয়াজ প্রবেশ করছে। এ বছর দেশি পেঁয়াজের ফলনও বেশি হয়েছে। তাই পেঁয়াজের দাম সামনে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। 

এদিকে ভোক্তারা বলছেন, পাইকারীতে দাম কমলেও খুচরা পর্যায়ে সেটির প্রভাব খুব একটা পড়ে না। এখনো পাইকারীর সাথে খুচরার পার্থক্য কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা পর্যন্ত। 

গতকাল চাক্তাই খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। এছাড়া দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। গত এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪৫–৫০ টাকায়। অন্যদিকে বর্তমানে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫–১০০ টাকায়।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে তাহেরপুরী, বারি–১ (তাহেরপুরী), বারি–২ (রবি মৌসুম), বারি–৩ (খরিপ মৌসুম), স্থানীয় জাত ও ফরিদপুরী পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। ফলে বছরজুড়েই কোনো না কোনো জাতের পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। এর মধ্যে ১৮ লাখ টন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হয়। আর আমদানি করা হয় বাকি চার লাখ টন। মূলত এই আমদানিকৃত চার লাখ টন পেঁয়াজ বাজারের ওপর খুব বড় প্রভাব ফেলে।

পেঁয়াজের আড়তদাররা বলছেন, পেঁয়াজের বাজার চাহিদা ও যোগানের ওপর নির্ভরশীল। চাক্তাই খাতুনগঞ্জের প্রায় আড়তদার কমিশনের ভিত্তিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেন। অর্থাৎ পেঁয়াজ আমদানিকারক যে দাম নির্ধারণ করে দেন, সেই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেন তারা। এর বিনিময়ে কেজিপ্রতি তারা নির্ধারিত একটি কমিশন পেয়ে থাকেন। তাই আড়তদারদের পক্ষে দাম উঠানামা করার কেনো সুযোগ নেই। আড়তদারদের পক্ষে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের দেশে পেঁয়াজের দরবৃদ্ধির সাথে সাথে প্রশাসনের লোকজন আড়তে অভিযান পরিচালনা করে। এতে আতঙ্ক তৈরি হয়। অথচ আড়তদাররা পেঁয়াজ আমদানি করেন না।

চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, এ বছর দেশি পেঁয়াজের ফলন হয়েছে। ফলে চাক্তাই–খাতুনগঞ্জের প্রতিটি দোকান–গুদামে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের মজুদ রয়েছে। এর বাইরে ভারতীয় পেঁয়াজও বাজারে আসছে। যদিও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমেনি।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। দামও কমছে। এখন কৃষকের ঘরে নতুন পেঁয়াজ উঠেছে। দেশি পেঁয়াজের ফলনও ভালো হয়েছে। আশরাফুল ইসলাম নামের এক ভোক্তা জানান, পাইকারীতে যখন পেঁয়াজের দাম বাড়ে, তখন খুচরা বিক্রেতারা সাথে সাথে দাম বাড়িয়ে দেন। অথচ কমে যায়, তখন তারা না কমিয়ে নানা অজুহাত দাঁড় করায়। তাই প্রশাসনের খুচরা বাজার মনিটরিং করা উচিত।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে